
নিরাপত্তা, বাণিজ্য, মৎস্য ও যুব অভিজ্ঞতা প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে অস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) ও বৃটেনের সরকার। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউ-ইউকে শীর্ষ সম্মেলনের আগেই এসব চুক্তির বিষয়ে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ। ইইউ’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্মেলনে উভয় ব্লকের মুখোমুখি বসার আগে প্রতিরক্ষাসহ অন্যান্য ইস্যুতে আলোচনার পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে। ২৭ দেশের জোট ইইউ’র সঙ্গে একাধিক বিষয়ে একটি সাধারণ সমঝোতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ইইউ সরকারের প্রতিনিধিদল এবং বৃটেনের মধ্যে সমঝোতা হওয়া বিষয়গুলো এখন শুধু অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
সোমবার লন্ডনে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন ও জোটের কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা। তাদের ওই বৈঠকের পরই চুক্তির বিষয়টি খোলসা করেছেন ইইউ কর্মকর্তারা। ইউরোপিয়ান এক কূটনীতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ইইউ-ইউকে সম্মেলন উপলক্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু ভিন্ন বিষয় এবং সমান্তরাল বিষয়ের ওপর চুক্তি হয়েছে। ওই কূটনীতিক বলেছেন, এ বিষয়ে আমার বোঝাপড়া হচ্ছেÑ সকল পক্ষই খুশি মনে সম্মেলনের টেবিলে বসতে চায়। সকল সদস্য রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক চুক্তির জন্য এখন এটি লিখিত প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে এতে কোনো সমস্যা হওয়া উচিত নয়। বেক্সিটের পর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃনির্ধারণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলোর ওপর জোর দিয়েছে বৃটেনের সরকার। এতে গোটা ইউরোপের অর্থনীতির বিকাশ এবং নিরাপত্তা জোরদারে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পুনর্গঠন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত কয়েকদিনে লন্ডনের আলোচকদের কাছ থেকে যে প্রতিক্রিয়া এসেছে তা ইতিবাচক। পরিস্থিতি এখন উভয় পক্ষের সফল ও গঠনমূলক সম্পর্ক পুনঃনির্মাণের জন্য প্রস্তুত। যা থেকে উভয় পক্ষই লাভবান হবে বলে মনে করেন ওই কূটনীতিক। বেশ কিছু চুক্তির বিষয় নিশ্চিত করেছে বৃটেনের সরকার। এ বিষয়ে ইইউ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকবে বলেও জানিয়েছে লন্ডন। উভয় পক্ষই নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষায় যৌথ প্রচেষ্টার ওপর বেশ জোর দিয়েছে এবং চুক্তির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে ইইউ’র ১৫০ বিলিয়ন পাউন্ড প্রতিরক্ষা তহবিলে বৃটেনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ ছাড়াও খাদ্য এবং পানীয় আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রেও চুক্তির বিষয়ে একমত হয়েছে বৃটেন ও ইইউ। ইউরোপিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে লন্ডনের খাদ্য ও পানীয় আমদানি-রপ্তানি সহজ করার লক্ষ্যে এ বিষয়ে এসপিএস চুক্তি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসপিএস দ্বারা স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি বোঝায়। এর মাধ্যমে পশু ও খাদ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে জোর দেয়া হয়। এতে বলা হয়েছে নতুন চুক্তি ব্যবসায়ীক অনিয়ম কমাবে এবং সীমান্তে সময় বাঁচাতে সাহায্য করবে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এসব চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সরকার। এ ছাড়া যুব অভিজ্ঞতা প্রকল্পের বিষয়েও বেশ কিছু চুক্তি হয়েছে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষ যৌথভাবে কাজ করতে রাজি হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে তরুণরা ইউরোপে মুক্তভাবে কাজের সুযোগ পাবে। তবে এক্ষেত্রে সময় নির্ধারণ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে বৃটেনের সরকার। ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলোর সঙ্গে বৃটেনের যে প্রকল্প রয়েছে যুব অভিজ্ঞতা প্রকল্প সে রকমই হবে।
