
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়াম থেকে রোববার (১৯ অক্টোবর) দিনের আলোয় চুরি হয়েছে প্রাচীন রাজকীয় ‘অমূল্য’ গহনা। ফরাসি প্রসিকিউটরের তথ্য অনুযায়ী, চুরি হওয়া আটটি গহনার মধ্যে ছিল কুইন মেরি-আমেলি ও কুইন হর্টেন্সের তিয়ারা ও কানের দুল। চুরির মূল্য প্রায় ৮৮ মিলিয়ন ইউরো বা ১০২ মিলিয়ন ডলার হিসেবে অনুমান করা হয়েছে। প্রসিকিউটর লোরে বেকো জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক ক্ষতির তুলনায় এই চুরির ঐতিহাসিক ক্ষতি অনেক বেশি গুরুতর।
চুরির ঘটনা ঘটেছে ল্যুভরের অ্যাপোলো গ্যালারিতে, যেখানে ফ্রান্সের বাকী রাজকীয় গহনাগুলি সংরক্ষিত। চারজন মুখোশধারী চোর ক্রেন ব্যবহার করে উপরের জানালা ভেঙে প্রবেশ করে। তারা মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে দিনের আলোয় চুরি সম্পন্ন করে এবং মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। চুরির সময় সম্রাজ্ঞী ইউজিনির রাজ মুকুট (ক্রাউন) জাদুঘরের বাইরে ফেলে যায়, সম্ভবত চোরেরা পালানোর সময় এটি ফেলে দিয়েছে। ল্যুভরের পরিচালক লরেন্স দেস কার্স চুরির পর এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দেননি। তবে বুধবার (২২ অক্টোবর) তিনি ফরাসি সংসদের সাংস্কৃতিক কমিটির সামনে হাজির হবেন। জানুয়ারিতে তিনি ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছিলেন যে মিউজিয়ামের অবকাঠামো ও নিরাপত্তা অত্যন্ত পুরনো এবং তাৎক্ষণিক সংস্কারের প্রয়োজন। শ্রমিক ইউনিয়নের অভিযোগ, নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা কমানো হয়েছে, যদিও ল্যুভরে দর্শনার্থীর সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে।
ল্যুভরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০২২ সালে ৮.৭ মিলিয়ন ও ২০২৩ সালে ৮.৯ মিলিয়ন মানুষ মিউজিয়ামটি পরিদর্শন করেছে, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরে। এছাড়া, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নবাহির দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ ফি ২২ ইউরো থেকে ৩০ ইউরো পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দুই দিনের পুলিশ তদন্ত এবং মিউজিয়ামের নিয়মিত বন্ধ থাকার পর ল্যুভর মিউজিয়াম বুধবার পুনরায় খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই চুরি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং ফরাসি ও বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর এক গুরুতর আঘাত। সূত্র : আল-জাজিরা।
