
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, পাল্টা হামলা ও সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত ও পাকিস্তান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে। সামরিক দিক থেকে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকলেও রাজনৈতিকভাবে উত্তাপ এখনো ঠান্ডা হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তিনি পাকিস্তানের জনগণকে সরাসরি বার্তা দিয়ে বলেন, “রুটি খাও, নইলে আমার বুলেট তো আছেই।” মোদির এই মন্তব্য মঙ্গলবার (২৭ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার গুজরাটের ভূজে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদি পাকিস্তানের জনগণ ও তরুণদের উদ্দেশে বলেন, সন্ত্রাসবাদ থেকে কী পেয়েছেন আপনারা? তিনি তুলনা করে বলেন, ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠেছে, অথচ পাকিস্তান আজ কোথায়? মোদি দাবি করেন, পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসবাদের ‘রোগ’ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে চায়, তাহলে তার জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে। এরপর তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা শান্তিতে বাঁচো, পেটভরে রুটি খাও। না খেতে চাইলে, আমার গুলিও (বুলেট) কিন্তু প্রস্তুত আছে।”
এর আগে গুজরাটের দাহোদে আরেক জনসভায় মোদি সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, “যারা আমাদের নারীদের সিঁদুর মুছে দিতে চায়, তাদের অস্তিত্বও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।” তিনি এটিকে শুধু একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং ভারতীয় আবেগ ও সংস্কৃতির প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন।
এই বক্তব্যে মোদির যুদ্ধংদেহী ভঙ্গি আবারও স্পষ্ট হলো, যা একদিকে জাতীয়তাবাদী আবেগ উস্কে দিচ্ছে, অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তির সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে। দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে কূটনৈতিক সংলাপ ও জনগণের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—যা হয়তো মোদির কথার আড়ালেও কিছুটা প্রতিফলিত হয়েছে। তথ্যসূত্র : এনডিটিভি
