
রাশিয়া আবারও ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। শনিবার গভীর রাতে পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে লাভিভ অঞ্চলে রুশ বাহিনী একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
শনিবার রাতভর এই হামলা চলে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে পোল্যান্ড সীমান্তঘেঁষা লাভিভ শহরে। রাশিয়ার এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানায়, লাভিভে এটি ছিল সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলা। হামলার সময় পুরো ইউক্রেনজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, শনিবার রাতভর দেশজুড়ে আকাশে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গর্জন শোনা যায়। পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লাভিভ শহরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় করা হয়। শহরের মেয়র আন্দ্রি সাদোভি বলেন, “প্রথমে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ড্রোন ভূপাতিত করে, তারপর রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আরও বড় আক্রমণ চালায়।”
রোববার সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত লাভিভ শহরের কিছু অংশ বিদ্যুৎবিহীন ছিল, গণপরিবহন বন্ধ ছিল, এবং বিস্ফোরণের শব্দ এখনও ছড়িয়ে ছিল বাতাসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, “বোমা পড়ার শব্দ চারদিক থেকে আসছিল, আকাশ যেন কেঁপে উঠছিল।”
আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেডোরভ টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাপোরিঝিয়া শহরেও শনিবার রাতে হামলা হয়। সেখানে একজন নিহত ও অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, “অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক ও ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক গাড়ি পুড়ে গেছে, জানালা ভেঙে উড়ে গেছে।”
ন্যাটো সদস্য দেশ পোল্যান্ডও ঘটনাটিকে ঘিরে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনে বিমান হামলা শুরু করার পর রবিবার ভোরে পোল্যান্ড তাদের যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে আকাশসীমা রক্ষায়। দেশটির অপারেশনাল কমান্ড এক্স (পূর্বে টুইটার)–এ লিখেছে, “পোলিশ ও মিত্র বিমানগুলো এখন আকাশে টহল দিচ্ছে, আর স্থলভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।”
রাশিয়ার এই হামলা ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্যও নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কারণ লাভিভ অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান—ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ডের একদম কাছে—যে কোনো সীমান্ত অতিক্রমী হামলার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স
