মোজতবা খামেনির ‘৯০ শতাংশই শেষ’: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক

ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে আবারও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তিনি প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের বড় অংশ নিহত হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তার (মোজতবা খামেনি) অবস্থা ৯০ শতাংশ শেষ।’ তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো গোয়েন্দা তথ্য বা নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করেননি।

প্রসঙ্গত, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে খুব একটা দেখা দেননি। এমনকি তার বাবা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এই অনুপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনেই ট্রাম্প মন্তব্য করেন, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দফার বিমান হামলায় আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর মোজতবাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছিল। তবে তার দাবি, পরবর্তী মার্কিন হামলায় মোজতবাও গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।

এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের নৌবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। বিমান বাহিনীর সক্ষমতাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির অধিকাংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের বড় অংশ নিহত হয়েছেন।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে সোমবার ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। বর্তমান সংঘাতে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব তার হাতেই রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মোজতবা খামেনি আহত, নিহত বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত ইরান সরকার বা স্বাধীন আন্তর্জাতিক সূত্র নিশ্চিত করেনি। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এরই মধ্যে গত সপ্তাহের শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওমান উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক কনটেইনার জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা, সামরিক অভিযান এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক অভিযান দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *