
টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর সাথে “নিরাপত্তা চুক্তি” স্বাক্ষর করতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরান। বুধবার আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত ওআইসি (OIC) ভুক্ত দেশগুলোর সংসদীয় ইউনিয়নের সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, “ইরান সব মুসলিম দেশের সাথে, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা চুক্তি গড়ে তুলতে প্রস্তুত।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধটি কেবল কোনো সামরিক সংঘাত ছিল না। বরং এটি ছিল এই অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্য পরিবর্তনের একটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টা।
এদিকে, তেহরানের এই নতুন প্রস্তাবের মাঝেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে রয়েছেন। ইরানের সাথে হওয়া সাম্প্রতিক মার্কিন চুক্তিটি নিয়ে ওমান, বাহরাইন ও কুয়েতের মতো সংশয়ী দেশগুলোকে আশ্বস্ত করাই তার এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় এই দেশগুলো ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল।
অন্য এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। তারা স্পষ্ট করেছে যে, আলোচনা প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়নি, বরং এটি কেবল একটি সাময়িক বিরতি ছিল।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধ করা, গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পথ হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়েছে। এর বিনিময়ে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং তাদের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে আগামী ৬০ দিনের এক উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
