মুসলিমরা ধর্মীয় কারণে ক্রমশ গণপিটুনির সম্মুখীন হচ্ছে: কেরালার মুখ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, কেন্দ্র ঘৃণা-চালিত রাজনীতি অনুসরণ করছে যা মুসলিমদের প্রান্তিক করে তুলছে এবং দেশজুড়ে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করছে।



কেরালা মুসলিম জামাত আয়োজিত ‘কেরালা যাত্রা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে এক বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় বিজয়ন বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতি ও আইন মুসলিমদের ‘দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে’ পরিণত করেছে এবং সাংবিধানিক গ্যারান্টি বা অধিকারের ওপর তাদের বিশ্বাসকে দুর্বল করে দিয়েছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তগুলো জাতীয় সংহতির লক্ষ্যে নয়, বরং সংখ্যালঘুদের বিচ্ছিন্ন করা এবং তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের প্রান্তভাগে ঠেলে দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়েছে।



বিজয়ন উল্লেখ করেন যে, নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং ওয়াকফ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীর মতো বিতর্কিত আইনগুলো অত্যন্ত বৈষম্যমূলক এবং এগুলো মুসলিমদের বর্জনের একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ সমান নাগরিকত্বের নীতিকে ক্ষুণ্ণ করে এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর মূলে আঘাত করে।



বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ক্রমশ লাঞ্ছনা, ভীতি প্রদর্শন, গণপিটুনি এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের সম্মুখীন হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশসহ অন্যান্য রাজ্যের ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলো প্রকাশ্যেই সহিংসতার উস্কানি দিচ্ছে, আর কর্তৃপক্ষের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা তাদের আরও সাহসী করে তুলেছে।



তিনি আরও বলেন, মুসলিম ও খ্রিস্টানদের উপাসনালয়ে হামলা সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের এক সুপরিকল্পিত কৌশলের অংশ। ভারতের গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তি আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। বিজয়ন স্মরণ করিয়ে দেন যে, কেরালায় তার সরকারের কঠোর পদক্ষেপ অতীতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়ক হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের মাধ্যমেই কেবল সাম্প্রদায়িকতাকে পরাজিত করা সম্ভব।



ইসলামী চিন্তাবিদ এ.পি. আবুবকর মুসলিয়ারের নেতৃত্বে ‘কেরালা যাত্রা’ গত ১ জানুয়ারি কাসারগোড থেকে শুরু হয়ে তিরুবনন্তপুরমে এসে শেষ হয়। এই যাত্রার মূল লক্ষ্য ছিল ঐক্য, সাংবিধানিক অধিকার এবং সাম্প্রদায়িক ঘৃণার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। কেরালা মুসলিম জামাতের নেতারা বলেন, এই যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল সংখ্যালঘুদের আশ্বস্ত করা এবং জাতিকে মনে করিয়ে দেওয়া যে সংবিধান সব নাগরিকের সমান অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *