ভারতে চার মুসলিমকে পিটিয়ে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিল হিন্দুত্ববাদীরা

আন্তর্জাতিক

উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে গত শনিবার হরদুয়াগঞ্জ এলাকায় একটি কনটেইনারে গোশত পরিবহনকারী চার মুসলিমকে থামিয়ে নির্মমভাবে লাঞ্ছিত করে হিন্দুত্ববাদীরা। পুলিশ কর্মীদের উপস্থিতিতে তাদের গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয় বর্বর হিন্দুত্ববাদীরা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা জনতার সহিংসতার ভিডিওতে দেখা গেছে, ৪ মুসলিম যুবককে আংশিকভাবে বিবস্ত্র করে নির্মমভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে।
হরদুয়াগঞ্জ থানায় দায়ের করা এফআইআর অনুসারে, অভিযোগকারী রশিদ খানের ছেলে সেলিম খান, তার ভাগ্নে আকিল ইব্রাহিমের সাথে আত্রৌলি থেকে আলিগড় মান্ডি কারখানায় যাচ্ছিলেন। এসময় তাদের গাড়ি থামানো হয়।
পানেথি রোড থেকে সাধু আশ্রম রোডের দিকে যাওয়ার পথে সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ এ ঘটনা ঘটে।
এফআইআরে রামকুমার আর্য এবং অর্জুন ওরফে ভোলুসহ তেরো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরো ২০-২৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই ব্যক্তিরা হরদুয়াগঞ্জ এবং আলিগড়সহ এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। অভিযোগ, ওই দলটি গাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং তাদের যেতে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করে।

সেলিম খান এবং আকিল ইব্রাহিম গাড়ি থেকে নেমে এ দাবিতে আপত্তি জানালে রামকুমার আর্য এবং লাভকুশ অন্যদের তাদের ওপর হামলা করার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের লোহার রড, লাঠি এবং ডান্ডি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। হামলার সময়, অভিযুক্তরা তাদের পকেট তল্লাশি করে মোবাইল ফোন এবং টাকা চুরি করে। আক্রমণে আকিল ইব্রাহিম আহত হন। এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আহতদের চিকিৎসার জন্য রিপোর্ট করতে দেরি হয়েছে।

বজরং দলের স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, এটি একই গাড়ি যা গ্রামবাসীরা আগে একই রকম ‘অবৈধ গোশত’সহ আটক করেছিল। তবে, পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এগুলো মহিষের গোশত।
পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) অমৃত জৈন বলেছেন, একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। জৈন এক্স-এ পোস্ট করা একটি ভিডিওতে বলেছেন, ‘গোশত জব্দ করা হয়েছে এবং পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে’। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন যে, গরু জবাইয়ের কাগজপত্রসহ পরিবহনকারীর সব কাগজপত্র ঠিক ছিল। সূত্র : মাকতূব মিডিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *