
ভারতের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা জোরদার করতে বৃটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এমপি প্রীতি প্যাটেল। একই সঙ্গে তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখবে সরকারে প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ২২শে এপ্রিল ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের উপর চালানো সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। হাউস অব কমন্সে বক্তব্যে প্রীতি প্যাটেল বলেন, ২২ এপ্রিল পেহেলগামে সন্ত্রাসীরা ২৬ জন নিরীহ পর্যটককে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বেশির ভাগ মানুষকে খুব কাছ থেকে গুলিবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি জঘন্য ও বর্বর হামলা, যা চিরকাল এই শহরকে ক্ষতবিক্ষত করে রাখবে।
তিনি বলেন, পেহেলগাম এখন মুম্বই, নয়াদিল্লি এবং ভারতের অন্যান্য সন্ত্রাস-আক্রান্ত শহরের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত আত্মরক্ষার অধিকার রাখে এবং সন্ত্রাসের শিকড় উপড়ে ফেলার জন্য যৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠনের হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জানি, পাকিস্তানে আশ্রিত সন্ত্রাসীরা শুধু ভারত নয়, পশ্চিমা স্বার্থকেও হুমকি দেয়। লস্কর-ই-তৈয়েব এমনই একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন, যাদের বিরুদ্ধে ভারতের উপর সন্ত্রাস চালানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
প্যাটেল প্রশ্ন তোলেন, বৃটেন কি ভারতের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করছে এবং এই হামলার তদন্তে কোনও নিরাপত্তা সহায়তা দিয়েছে কি না। পাশাপাশি তিনি জানতে চান, লস্কর-ই-তৈয়েব কি প্রকৃতপক্ষে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর ছদ্মবেশ, যারা এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে বর্তমানে কোন কোন সন্ত্রাসী সংগঠন সক্রিয় রয়েছে এবং তারা আন্তর্জাতিকভাবে কাদের সঙ্গে যুক্ত- এই বিষয়ে সরকার স্পষ্ট ধারণা দিক। তিনি বৃটেন থেকে পাকিস্তানকে দেওয়া সাহায্য যেন সন্ত্রাসে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। প্রীতি প্যাটেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে বৃটেন কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তিনি দুই দেশের বৃটিশ দূতাবাসে কনস্যুলার সহায়তা জোরদার করার অনুরোধ জানান এবং বলেন, ভারত ও পাকিস্তানি প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে উত্তেজনার প্রভাব রোধে আমাদের সরকারকে প্রস্তুত থাকতে হবে। শেষে তিনি বলেন, সরকার যেন এই হামলার পেছনে কারা ছিল, তারা কাদের সঙ্গে যুক্ত এবং এর ফলে বৃটেনের নিরাপত্তার উপর কী প্রভাব পড়তে পারে- সে বিষয়ে পার্লামেন্টকে স্পষ্ট করে জানায়।
