‘বেঁচে আছেন কিনা জানি না’, ইমরানের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ছেলে কাসিমের

আন্তর্জাতিক

আদিয়ালা জেলে বন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আদৌ বেঁচে আছেন কিনা, সে সম্পর্কে নিশ্চিত নন তার ছেলে কাসিম খান। সোমবার (১ ডিসেম্বর) এক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শাহবাজ শরিফ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। খানিকটা উদ্বেগ আর হতাশা ভরা কণ্ঠে বলেছেন, ‘কয়েক মাস ধরে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। আদিয়ালা জেলে বাবা নিরাপদ আছেন কিনা, এমনকি বেঁচে আছেন কিনা, তা জানি না। মনে হচ্ছে পাকিস্তান সরকার কিছু একটা লুকোচ্ছে।’

২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ খুঁইয়েছিলেন সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক তথা পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খান। ক্ষমতা হারানোর পরেই একের পর এক মিথ্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে শাহবাজ শরিফের সরকার। ২০২৩ সালের অগস্ট থেকে আদিয়ালা জেলে বন্দি ৭২ বছর বয়সী রাজনেতা। তোশাখানা মামলার পাশাপাশি কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁসের অভিযোগে ১০ বছর এবং আল-কাদির ট্রাস্টের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পৃথক দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছর জেলের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্বেও গত কয়েক সপ্তাহ পরিবারের সদস্য ও দলের নেতাদের ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ। ফলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, হয়তো জেলের ভিতরেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে।

ওই জল্পনার মূল কারণ হল, পাকিস্তানের বর্তমান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ইমরান খানের শত্রুতা। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন চুরি আর দুর্নীতির দায়ে মুনিরকে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন পিটিআই সুপ্রিমো। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া গুজবের মধ্যেই আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘সুস্থ রয়েছেন ইমরান খান।’ যদিও কেন তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে মুখ খোলেনি। ইতিমধ্যেই ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানিয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ইমরানের বোন আলিমা খান।

এদিন বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষা‍ৎকারে ইমরান পুত্র কাসিম বলেছেন, ‘পাকিস্তানের বর্তমান শাসকরা বাবাকে ভয় পায়। তিনি পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা এবং তারা জানে, গণতান্ত্রিকভাবে ইমরানকে পরাজিত করা সম্ভব নয়।’

২০২২ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানে গিয়ে শেষ বার বাবাকে দেখেছিলেন কাসিম ও তার ভাই সুলেমান। সেই স্মৃতিচারণ করে ইমরান পুত্র বলেন, ‘সেই ছবিটা তখন থেকেই আমার মনে গেঁথে আছে। আমাদের বাবাকে ওই অবস্থায় দেখা এমন একটা জিনিস, যা আপনি কখনই ভুলতে পারবেন না। আমাদের বলা হয়েছিল যে, তিনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ হয়ে উঠবেন। এখন কয়েক সপ্তাহের সম্পূর্ণ নীরবতা এবং জীবনের কোনও প্রমাণ না পাওয়ার পর, সেই স্মৃতির ওজন অন্যরকম…।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *