খবর৫২.কম
লন্ডন/ঢাকা, ১৪ জুন ২০২৫: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি লন্ডনে ঘোষণা করেছেন, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য ২০২৫ সালের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ লিটিগেশন ফান্ড গঠন করা হবে। ডিএলএ পাইপার আয়োজিত এক উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
প্রধান ঘোষণাসমূহ:
- ৩০টি বড় মামলার জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার ফান্ড গঠন
- যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরে ‘স্পেশাল পারপাস ভেহিকল’ (এসপিভি) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব
- আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা ত্বরান্বিত করতে গোপনীয়তা চুক্তি (এনডিএ) স্বাক্ষরের আহ্বান
গভর্নর ড. মনসুর তার চার দিনব্যাপী লন্ডন সফরে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) এবং শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক আইন ও তদন্ত সংস্থাগুলোর সাথে বৈঠক করেন। তিনি বলেন, “সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ১৭০ মিলিয়ন ডলার এবং শায়ান-শাহরিয়ার রহমানের ৯০ মিলিয়ন ডলার সম্পদ পুনরুদ্ধার আমাদের সাফল্য, কিন্তু আরও অনেক কাজ বাকি।”
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা:
- ওমনি ব্রিজওয়ে, বেঞ্চওয়াক ক্যাপিটালসহ শীর্ষ ফান্ডিং প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ
- বিদেশে বাংলাদেশি ঋণখেলাপীদের সম্পদ শনাক্তকরণে তথ্য বিনিময়
- সম্পদ পুনরুদ্ধার টাস্কফোর্স ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার
দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের সাথে যৌথভাবে এনসিএ সফরকালে গভর্নর ১১টি অগ্রাধিকারমূলক মামলায় যৌথ তদন্ত দলের (জেআইটি) কারিগরি সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় বড় অঙ্কের ফান্ড গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে সম্পদ পুনরুদ্ধারের হার কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
