খবর ৫২

ঢাকা: বাংলাদেশ সরকার বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীন থেকে ১২টি জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত মার্চে চীন সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে এক বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীদের দুজন জ্যেষ্ঠ সদস্য বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৬শে মার্চ প্রধান উপদেষ্টা চার দিনের সফরে চীনে যান। তাঁর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দুই নেতার বৈঠকে তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সহায়তা, বহুমুখী যুদ্ধবিমান (Multi-role Combat Aircraft) ক্রয় এবং বাংলাদেশের বন্দরগুলোর সঙ্গে চীনের কুনমিং শহরের সংযোগ স্থাপন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জে-১০সি: অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রতীক
চীনের তৈরি জে-১০সি যুদ্ধবিমানটি ‘ভিগোরাস ড্রাগন’ নামেও পরিচিত। এটি একটি চতুর্থ প্রজন্মের বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা একযোগে বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম। এটি শব্দের চেয়ে বেশি গতিতে উড়তে পারে এবং শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ও ড্রোন শনাক্তকরণে অত্যন্ত দক্ষ।
এই যুদ্ধবিমানটি আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে হামলা চালাতে পারে। এটি ২০০ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। এছাড়া, এটি নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি শত্রুর রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিকল করে দিতেও সক্ষম।
পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, গত মে মাসে কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর চীনের জে-১০সি-এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। পাকিস্তান জানায়, তারা এই যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে ফ্রান্সের তৈরি ড্যাসো রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সতর্কতা
চীনের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা বাংলাদেশের জন্য ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বৃদ্ধির দিকে কড়া নজর রাখছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনীরুজ্জামান মনে করেন, জে-১০সি কেনা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ালেও, এটি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনা করে এই ধরনের কেনাকাটায় অত্যন্ত সতর্ক হওয়া উচিত।
