প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে লাঠিপেটা, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড; আহত অনেকে

জাতীয় প্রচ্ছদ

খবর ৫২ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৫, বৃহস্পতিবার

ঢাকা: তিন দফা দাবি আদায়ে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। জবাবে শিক্ষার্থীরাও ইটপাটকেল ছোড়ে। এই সংঘর্ষে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং পুলিশসহ অনেকেই আহত হন।

বুধবার সকাল ১১টা থেকে বুয়েট, ঢাকা কলেজ, রুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘লংমার্চ টু ঢাকা’র অংশ হিসেবে শাহবাগে অবস্থান নেন। তাদের স্লোগান ছিল ‘কোটা না মেধা-মেধা মেধা’, ‘অবৈধ ডিপ্লোমা কোটা- অবসান চাই অবসান চাই’ ইত্যাদি।

দুপুরের পর শিক্ষার্থীরা যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে রওনা দিলে পুলিশ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ব্যারিকেড দেয়। দুই দফা ব্যারিকেড ভেঙে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে গেলে পুলিশ অ্যাকশনে যায়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং জলকামান ব্যবহার করে। এতে অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হন বলে দাবি করা হয়। বেশ কয়েকজন আহত শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের কারণে শাহবাগ, বাংলামোটর, ইস্কাটন এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যা প্রায় অর্ধেক রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামাতে সরকার একটি ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে, যার সভাপতি জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল রেল ভবনে সরকারের দুই উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসে। বৈঠক শেষে ফাওজুল কবির খান জানান, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল এবং এর জন্য পুলিশের প্রতিনিধি ক্ষমা চাইবেন। তিনি আরও বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) আবার বৈঠক হবে।

তবে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাত ৯টার পরেও শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করছিলেন এবং তারা কমিটি প্রত্যাখ্যান করে। তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমকে ক্ষমা চাইতে এবং হামলার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানান এবং পুলিশের হামলার নিন্দা করেন।

পুলিশের বক্তব্য:

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে যমুনার দিকে যেতে চাইলে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ছোঁড়া ইটপাটকেলে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *