পাক-আফগান সীমান্তে হামলার চেষ্টা, ৩০ জঙ্গি নিহত: পাকিস্তান সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক

উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৩০ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ দফতর আইএসপিআর (ISPR) জানিয়েছে, এই সন্ত্রাসীরা ছিল ‘ভারত-সমর্থিত প্রক্সি’ জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য এবং তারা আফগানিস্তান সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। শুক্রবার (৪ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।

ঘটনা ঘটে ২ এবং ৩ জুলাই রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলার হাসান খেল এলাকায় সেনাবাহিনী একটি বড় জঙ্গি দলের গতিবিধি শনাক্ত করে। সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, এই গোষ্ঠীটি ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে পরিচিত, যাকে পাকিস্তান সরকার ২০২৩ সালে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান টিটিপি (TTP) নামে ঘোষণা করেছিল। সরকার নির্দেশ দিয়েছে যে, এই ধরনের জঙ্গিদের ‘খারিজি’ (বহিষ্কৃত) নামে অভিহিত করা হবে।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর দক্ষতা ও প্রস্তুতির কারণে সকল ৩০ জন জঙ্গিকে “নরকে পাঠানো হয়েছে”। সেনাবাহিনী তাদের অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়। বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর “অসাধারণ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা এবং প্রস্তুতির” প্রশংসা করা হয়েছে, যা একটি সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে সাহায্য করেছে।

আইএসপিআর আরও বলেছে, আফগান সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা আফগান ভূখণ্ডকে ‘বিদেশি প্রক্সি’দের দ্বারা পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হতে না দেয়। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সীমান্ত রক্ষা এবং ভারত-প্রণোদিত সন্ত্রাসবাদকে সম্পূর্ণ নির্মূল করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি এই অভিযানের জন্য সেনাবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের অভিযান চলবে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে তিনি এই কথা বলেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে বলেন, “পাকিস্তানের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী দেশের রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।” তিনি গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক এই অভিযানের সফলতা এবং সেনাবাহিনীর বীরত্বের প্রশংসা করেন এবং বলেন, “পুরো জাতি আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীকে স্যালুট জানায়।”

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান টিটিপি (TTP) সরকারের সঙ্গে তাদের অস্ত্রবিরতি বাতিল করার পর থেকে পাকিস্তানে বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে। এই ঘটনাটি বেলুচিস্তানের ডুকি জেলায় দুই সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটল।

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (PICSS) মে মাসের নিরাপত্তা বিশ্লেষণ অনুসারে, গত মে মাসে ৮৫টি জঙ্গি হামলায় ১১৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, ৪৬ জন বেসামরিক, ১১ জন জঙ্গি এবং ৪ জন শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। তথ্যসূত্র : দ্য ডন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *