নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় ইরানের সাথে আলোচনা করতে হবে ট্রাম্পকে

আন্তর্জাতিক

বিশ্ব অর্থনীতি এবং নিজের রাজনৈতিক খ্যাতির স্বার্থে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শেষ পর্যন্ত ইরানের সাথে আলোচনায় বসতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন একজন বিশেষজ্ঞ। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাষক ড. রোক্সেন ফার্মানফার্মাইয়ান বিবিসি রেডিও ৪-এর টুডে প্রোগ্রামে বলেন, হোয়াইট হাউসকে শীঘ্রই আলোচনায় বসতে হবে—বিশেষ করে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার কারণে।



গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট টানা পাঁচ দিন ধরে ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইরান কোনো চুক্তিতে না এলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো উড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তেহরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে এই যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়বে।



ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, “ইরান নিশ্চিতভাবেই আলোচনার জন্য বেশ ব্যাকুল এবং আমার মনে হয় তাদের আলোচনার দরজা খোলাই রয়েছে।” সেই সাথে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সংঘাত শুরু হওয়ার আগে থেকেই ইরানের অর্থনীতি একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।



তিনি আরও বলেন, “তবে এই সময়ের মধ্যে আমার মনে হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের (ইরানের) আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারও একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে সরে এসেছে; ঠিক যেভাবে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।”

.



উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ট্রাম্প ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইসরায়েলের সাথে যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর, ট্রাম্প এবং তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছিল, যেখানে তারা ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।



তবে ইরান তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করার অভিযোগে বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলা চালালে সেই যুদ্ধবিরতি দ্রুত ভেঙে যায়। জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা ও ক্রমাগত হামলা শুরু করে।কিন্তু ফার্মানফার্মাইয়ান ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধ এভাবে অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না।

.



তিনি বলেন, “আমার মনে হয় ইরানের অর্থনীতিই তাদের আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করছে।কিন্তু একই সাথে, ইরান যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করতে পারে—যেমন তেলের দাম বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং আবারও সারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া—তবে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করবে।”



সর্বোপরি, ট্রাম্পের সামনে নির্বাচন আসছে এবং অন্য কিছু না হলেও তার রাজনৈতিক খ্যাতির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই প্রভাষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *