
আল আমিন হোসেনকে ডিপ কাভার দিয়ে চার মেরে শুরু, এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি। সঙ্গী বদল হয়েছে, শুরু করেছিলেন সাব্বির হোসেনকে নিয়ে, এরপর কখনো জাকির হাসান তো কখনো আব্দুল্লাহ আল মামুন। সঙ্গী পরিবর্তন হলেও নাঈম শেখের ব্যাট থেকে বের হওয়া বাউন্ডারির স্রোত থামেনি। ইনিংসের তখনও ১৩ ওভার বাকি, নাঈমের নামের পাশেই জমা হয় ১৭৬ রান। ডাবল সেঞ্চুরি করবেন কিনা এমন আলোচনাও সবে শুরু হয়েছে, তখনই আউট! তাতে ডাবল সেঞ্চুরি না হলেও এই ব্যাটারের ঝড়ে প্রিমিয়ার লীগে প্রথম দল হিসেবে ৪০০ ছাড়ানো সংগ্রহ পায় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের ম্যাচে মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ১৭৩ রানে হারায় প্রাইম ব্যাংক। টস হেরে আগে ব্যাটিং করা দলটি ৪২২ রানের রেকর্ড সংগ্রহ গড়ে। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে মাত্র ১২৫ বলে ১৭৬ রান করেন নাঈম শেখ। ১৮ চারের সঙ্গে ৮টি ছক্কা হাঁকান এই বাঁহাতি ওপেনার। প্রিমিয়ার লীগে এটা চতুর্থ সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। ২০৮ রান করা সৌম্য সরকার এই তালিকায় সবার উপরে। জবাবে ১৪ ওভারে ১০০ তুলে ফেললেও লড়াই করতে পারেনি ব্রাদার্স। শেষ পর্যন্ত ২৪৯ রানে শেষ হয় তাদের ইনিংস। একা আইচ মোল্লা লড়াই করলেও তাকে কেউ সঙ্গ দিতে পারেননি। তবে তারও সঙ্গী আক্ষেপ, মাত্র ৪ রানের জন্য হাতছাড়া করেন সেঞ্চুরি। ১১০ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় আইচের ব্যাট থেকে আসে ৯৬ রানের ইনিংস।
বাংলাদেশের মাটিতে এখন সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড প্রাইম ব্যাংকের। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এই রেকর্ড এতদিন ছিল ভারতের। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ইশান কিষানের ডাবল সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ৪০৯ রান করে ভারত। বাংলাদেশের মাঠে এতদিন এটিই ছিল একমাত্র চারশ’ ছোঁয়া দলীয় সংগ্রহ। আর ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে ও বাংলাদেশের কোনো দলের এই রেকর্ড ছিল আবাহনীর। ২০১৮ সালের মার্চে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে সৌম্য সরকারের ডাবল সেঞ্চুরিতে ৩৯৩ রান করেছিল প্রিমিয়ার লীগের সফলতম দলটি। প্রাইম ব্যাংক অবশ্য এর আগে দুবার চারশ’র কাছে গিয়ে থামে। ২০২২ সালে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে এনামুল হক বিজয়ের ১৮৪ রানে ৫ উইকেটে ৩৮৮ রানে থামে তাদের ইনিংস। আর গত বছর ব্রাদার্সের বিপক্ষে ৩৮০ রান করেছিল তারা। মিরপুরে গতকাল টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ব্রাদার্স ইউনিয়নের বোলারদের উপর চড়াও হন নাঈম ও সাব্বির। দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ১১০ বলে আসে ১৪০ রান।
৪৪ বলে পঞ্চাশ ছোয়ার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাব্বির। ৯ চার ও ৪ ছক্কার ইনিংসে ৬৩ বলে ৭৩ রান করেন তিনি। সাব্বিরের বিদায়ে ৩৮ বলে ফিফটি ছোয়া নাঈম শেখের ইনিংসের গতি কমে আসে। দ্বিতীয় উইকেটে জাকির হাসানের সঙ্গে ৬৮ বলে যোগ করেন ৮৬ রান। জাকির বড় কিছু করতে পারেননি। চার নম্বরে নেমে হতাশ করেন শাহাদাত হোসেন দীপুও। তবে সঙ্গীরা ব্যর্থ হলেও নাঈম ঝড় চালিয়ে গেছেন। ৮২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তিনি। ২৪ বলের ব্যবধানে একশ থেকে দেড়শ রানে পৌঁছে যান ২৫ বছর বয়সী ওপেনার। এই ঝড়ে ৩৭ ওভারেই ৩০০ পার করে প্রাইম ব্যাংক। তবে ডাবল সেঞ্চুরির আলোচনা শুরু হতেই পরের ওভারে সালাউদ্দিন শাকিলের বলে কাভারে ধরা পরে ফেরেন নাঈম। পাঁচ নম্বরে নেমে শামীম পাটোয়ারি ব্যর্থ হলে শেষ দিকে ঝড় তোলেন মামুন ও সাজ্জাদুল। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন মিলে গড়ে তোলেন ৫২ বলে ৮৪ রানের জুটি। ৩টি করে চার-ছক্কায় ২২ বলে ৪০ রান করেন মামুন। ৩৭ বলে ৫০ রান করেন সাজ্জাদুল। ৩ চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা মারেন তিনি। ব্রাদার্সের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেওয়া আল আমিন হোসেন ১০ ওভারে খরচ করেন ৭৭ রান।
