নবাবগঞ্জের নতুন বান্দুরা: মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত, আতঙ্কে স্থানীয়রা

বাংলাদেশ

খবর৫২.কম
১৬ অক্টোবর, ২০২৫

ঢাকার নবাবগঞ্জের নতুন বান্দুরা এলাকাটি মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের অবাধ যাতায়াত দেখা গেলেও রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে তাদের তৎপরতা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে হালদারপাড়ায় ইছামতি নদীর তীরে অস্থায়ী আস্তানা গড়ে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে এ সব বেআইনি কার্যক্রম চললেও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। অন্যদিকে, মাদকসেবীদের হামলার ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেন না এলাকাবাসী।

কারা চালাচ্ছেন মাদক ব্যবসা?
স্থানীয় সূত্র ও বেশ কয়েকজন মাদকসেবীর সঙ্গে পরিচয় গোপন করে কথা বলে জানা যায়, নতুন বান্দুরার পুরো মাদক ব্যবসা চালাচ্ছেন বেশ কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে বড় ব্যবসায়ী হিসেবে রয়েছেন অনিক হালদার (২৫), শ্যামল পাটনী (৪৫), সুজন সান্দার (৪০), সাজু (২৫) ও কালু (৩৮)। এ ছাড়া সুবাস হালদার (৪৫), লিটন হালদার (২৬), পুটি হালদার (৪০), টুটুল সূত্রধর (২৮), হাবিব (৩০), সোহেল (৩৫), হোন্ডা হাসেম (৩৪), হাসান (৩২), রাব্বি (২৮) ও তার বোন মিতু এবং প্রদীপ সান্দারের নামও উল্লেখযোগ্য। নয়ানগরের বিপ্লব ও সাইফুল নামের দুই ব্যক্তিকেও এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চেনেন স্থানীয়রা।

মাদকের দাম ও ব্যবসার চিত্র
মাদকসেবীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়াবা (স্থানীয়ভাবে ‘বাবা’ নামে পরিচিত) খুচরা প্রতি পিস বিক্রি হয় ৩০০ টাকায়। পাইকারি পর্যায়ে একটি জোড়া (২ পিস) ইয়াবা কেনা হয় ৪৬০ থেকে ৪৮০ টাকায়। মধ্যবর্তী কারবারিরা সেগুলো খুচরা বিক্রেতাদের কাছে জোড়া বিক্রি করেন ৫৫০ টাকায়। এরপর খুচরা বিক্রেতারা সেবীদের কাছ থেকে নিয়ে থাকেন ৬০০ টাকা জোড়া।

মাদক ট্রেডের হটস্পট
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, নতুন বান্দুরার হালদারপাড়ার ইছামতি নদীর তীরে দিনের বেলাতেই প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা চলে। এ ছাড়া বান্দুরার ইনছুর বাগানেও মাদকের হাট বসে। তবে রাত হলে মাদক ব্যবসায়ীদের আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। নতুন বান্দুরা অরুনাচল সংঘের মাঠ ও শ্মশান, মাদক ব্যবসায়ী কালুর বাড়ি সংলগ্ন সিঁড়ির ঘাট, নতুন বান্দুরা মুসলিম যুব সংঘের মাঠ, হাজিবাড়িসহ একাধিক স্থানে মাদক ব্যবসায়ীদের আড্ডা । বিশেষ করে বান্দুরা বাজার থেকে নয়ানগর যাওয়ার সড়ক এবং বাজার থেকে অরুনাচল সংঘ ও ভাঙা মসজিদের যাওয়ার সড়কে রাত ৮টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের উপস্থিতিতে আতঙ্কে থাকেন পথচারীরা।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, এর আগে সংবাদমাধ্যমে বান্দুরার একাধিক মাদক ব্যবসায়ীর নাম প্রকাশিত হলেও কালুকে গ্রেফতার করা হলেও বাকিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। স্থানীয়রা প্রশ্ন তোলেন, পুলিশের কাছে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না? পুলিশের নীরবতাই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করেন তারা।

পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, “মাদক নির্মূলে পুলিশ প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদকের ব্যাপারে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এলাকাটিকে মাদকের অভয়ারণ্য হওয়া থেকে রক্ষা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *