
পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের প্রায় দুই বছর পর পদত্যাগ করেছেন তাদের নিয়োগকৃত প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টার সময় জাতীয় সংসদ ভবনে তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিকেল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। জাতীয় সংসদে শপথ কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। স্পিকার বলেন, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ৫টা ১ মিনিটে আমার কাছে জমা দিয়েছে। পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি। আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। তিনি আরও বলেন, পদত্যাগপত্রে প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, “আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে প্রেসিডেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।”
এর আগে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে বলেন, যদি প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করেন, তাহলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করবেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। এই হলো সংবিধানের পজিশন।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার কথা।
এদিকে প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করার পর সরকারি দল বিএনপিসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা- কে হচ্ছেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট? দলটির নেতারা মনে করেন বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে। ফলে এই দীর্ঘ লড়াইয়ে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, দলের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রেখেছেন এবং রাজপথ, বিএনপি ও জিয়া পরিবারের প্রতি কমিটেড এমন একজন ব্যক্তিকেই দায়িত্ব দেয়া উচিত। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিবিদদের মধ্যে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট এর জন্য আলোচনায় আছেন- বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত সজ্জ্বন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত এবং বিএনপির বিগত ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই-সংগ্রামে রাজপথে সামনে থেকে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এজন্য তাকে বেশ কয়েকবার কারাবরণও করতে হয়েছে। সেই সময় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের প্রচ- চাপ, প্রলোভন, ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে তিনি বিএনপিকে মরহুমা চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত (তৎকালীন) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুসংহত ও সুসংগঠিত রেখেছিলেন। তার প্রত্যাশা ছিল ফ্যাসিবাদ আমলে নির্যাতনের শিকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখা, যার সবই তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ অলংকারিক ও মর্যাদাপূর্ণ পদ প্রেসিডেন্ট হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামটিই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।
বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন? আমার মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পদে যোগ্য ব্যক্তি। শেখ হাসিনার দুঃশাসনকালে তিনি মহাসচিব হিসেবে দলের হাল ধরেছেন, বহুভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে তিনি ব্যক্তিত্ববান, মডারেট, সদাচারী ও সুবক্তা হিসেবে অগ্রগণ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ বোঝাপড়ার সম্পর্ক রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার কাছে তিনি ছিলেন সন্তানসম একজন। বিএনপিতে উপযুক্ত আরো কেউ কেউ আছেন। তবে আমার মতে, সবদিক বিবেচনায় মির্জা ফখরুল এগিয়ে থাকবেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে কাউকে প্রেসিডেন্ট করা হলে তিনি সম্ভবত সেরা প্রার্থী।
১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল সাবেক শিক্ষক এবং অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য। ৭৯ বছর বয়সী এই নেতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ধীরস্থির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে অভিভাবকত্বের আসনে বসানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত করে তুলেছে। মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৮২ সালে এইচ এম এরশাদ রাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসার পর বারী পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। বারী পদত্যাগ করার পর মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির প্রফেসর হিসেবে যোগদান করে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। তার বাবা মরহুম রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী। মির্জা ফখরুলও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আলোচনায় থাকা অপর প্রবীণ রাজনীতিবিদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনিও দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। ১৯৪৬ সালে ১ অক্টোবর কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গয়েশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দলের সবচেয়ে সিনিয়র নেতা। তিনি ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব অনুষদে জুনিয়র লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। পর্যায়ক্রমে সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূ-তত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৭৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ভূতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে। ১৯৭৪ সালে ইম্পেরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিআইসি লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি ১৯৭১ সালে প্রবাসীদের সংগঠিত করেন এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন।
১৯৭৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপিতে যোগ দেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য। কুমিল্লা-২ আসন থেকে চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তার বাবা আবদুল মোমেন খান বাংলাদেশের প্রাক্তন সর্বোচ্চ বেসামরিক কর্মকর্তা (মন্ত্রিসভা সচিব) এবং বিএনপির একজন প্রাক্তন রাজনীতিবিদ। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন। ড. মঈন খান বিএনপির বর্তমান স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি প্রথমবারের মতো নরসিংদী-২ আসন (পলাশ) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ১৯৯৩-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, ২০০১-২০০২ সাল পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রী এবং ২০০২-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (বর্তমানে নাম পরিবর্তিত) মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিগত ফ্যাসিবাদ আমলে সক্রিয় থাকায় তাকে মিথ্যা মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তার হতে হয়েছে, কারাবরণও করেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান ১৯৭০-এর দশকে শ্রমিক আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান মেশিন টুলস কারখানার (বর্তমান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি) শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯৭১ সালের মার্চে গাজীপুরের জয়দেবপুরে সর্বদলীয় মুক্তিসংগ্রাম পরিষদ গঠিত হলে তিনি ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি কুয়েতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। সে সময় বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নজরুল ইসলাম খান। রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিক মামলায় কারাবরণ করতে হয়।
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য, স্পিকার এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) সামরিক বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার শেষে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ বীরত্বের জন্য তিনি বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত হন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগে তিনি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসন থেকে মোট ছয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রথমদিকে স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১ সালে বিএনপি-জমায়েত জোট সরকার গঠন করলে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ-ভারত পানি বণ্টন এবং তিস্তা ও গঙ্গা ব্যারাজ ইস্যুতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন।
নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি স্পিকারের দায়িত্ব পান এবং গতকাল প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করার পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
