
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশকৃত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে জমা দেয়া এ সনদে ৪৮টি প্রস্তাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে গণভোট ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে এ ভোট জাতীয় নির্বাচনের আগে হবে নাকি নির্বাচনের সঙ্গেই হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের দেশগুলোর মেধাবীদের হায়ারে এনে ৮ মাসের পরিশ্রমের ফসল জুলাই সনদে মেধার প্রমাণ তেমন না থাকলেও এই জুলাই সনদ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভেদের সৃষ্টি করেছে। জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র তিন মাস বাকি। এরই মধ্যে এ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত যেন অনিবার্য করে তুলছে। এমনকি গতকালও প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনী প্রস্তুতি সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ‘নির্বাচন বানচালের জন্য ভেতর থেকে, বাইরে থেকে অনেক শক্তি কাজ করছে’ এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
জুলাই অভ্যুত্থান ইস্যুতে সব রাজনৈতিক দল ও শক্তি যখন ঐকবদ্ধ, মনস্টার শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে একাট্টা; তখন গণভোট ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত উস্কে দেয়ার নেপথ্যের রহস্য খুঁজতে শুরু করেছে মানুষ। কার স্বার্থে গণভোট ইস্যু নির্বাচন কমিশনের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হলো? কেন জামায়াত গণভোটের জন্য এত মায়াকান্না করছে? হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ‘ধর্মের ঢাক আপনি বাজে’ প্রবাদটি প্রায়ই বলতে শোনা যায়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ জমা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে নভেম্বরে গণভোটের দাবি জানিয়েছে। গতকাল কমনওয়েলথের ‘ইলেকটোরাল সাপোর্ট’ শাখার উপদেষ্টা ও ‘প্রি-ইলেকশন অ্যাসেসমেন্ট’ প্রধান লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল জামায়াত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় জামায়াত নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন সঠিক সময়ে না হলেও জামায়াত চায় গণভোট। তিনি বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশন নির্বাচনের দিন বা এর আগে গণভোটের সুপারিশ করেছে সরকারের কাছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটই সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ গণভোট হবে সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর, আর জাতীয় নির্বাচন হবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নির্ধারণের জন্য। দুটোর চরিত্র আলাদা।’ একই দিন জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘গণভোটের তারিখ ঘোষণায় যত দেরি হবে, জাতীয় নির্বাচন তত সংকটের মধ্যে পড়বে’। তাহলে কি জামায়াতের দাবি-দাওয়ার দিকে তাকিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গণভোট অস্ত্র ইসির হাতে সুপারিশ করলেন? অবশ্য জুলাই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের সবগুলো বাস্তবায়ন হবে কি না বলা দুষ্কর। অতীতে এমন অনেক কমিশন হয়েছে। ঢাকঢোল পিটিয়ে সে কমিশনগুলো প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে। কিন্তু বেশির ভাগ প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হতে দেখা যায়নি। পিলখানা হত্যাকা-, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি তদন্ত কমিশন তো রিপোর্ট প্রকাশ করার সাহস দেখাতে পারেনি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটের প্রস্তাব বেশির ভাগ দলেরই ছিল। সেখানে কমিশন তার আগেও গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছে, এটা ঠিক করেনি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে তাদের কনস্টিটিউশন পাওয়ার দেওয়ার কথা আমরা কেউ কেউ বলেছিলাম। তবে তারা ২৭০ দিনে কার্যকর করতে না পারলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনে পরিণত হয়ে যাবে, এমন প্রস্তাব পৃথিবীর কোনো দেশে আছে কি না জানা নেই। সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ঐকমত্য কমিশনের ৯ মাসের কার্যক্রম প-শ্রমে পরিণত হয়েছে। সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক যে আদেশের কথা বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আদালতে গেলে টিকবে না। কারণ, একটি সংবিধান বিদ্যমান থাকতে এ ধরনের আদেশের বৈধতা নেই।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দেয়ার পর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সর্বত্রই এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন এ নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে; তেমনি হাট-মাঠ-ঘাট, অফিস-আদালত সবখানে এ নিয়ে চলছে পর্যালোচনা। গণভোটের ইস্যু যেন অনিবার্যভাবেই দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনৈক্য, জুলাই অভ্যুত্থানের স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে বিভেদ, এমনকি সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াত কার্যত মুখোমুখি অবস্থায় চলে গেছে। আর বাম ধারার দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী) ও বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশকে একপেশে এবং প-শ্রম হিসেবে অভিহিত করেছে। কিং পার্টি হিসেবে পরিচিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সনদে স্বাক্ষর না করলেও সনদ বাস্তবায়নে জোরালোভাবে তিনটি দাবি জানিয়েছে।
গতকাল রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী এবং সামাজিক সংগঠনের যত সভা-সেমিনার-বৈঠক হয়েছে প্রায় সবগুলোতেই জুলাই সনদ বিশেষ করে গণভোট ইস্যু সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটের দাবি করলেও জামায়াত নভেম্বর মাসেই গণভোট দাবিতে মাঠে নেমেছে। ২০১৪ থেকে ২০২৪ দীর্ঘ দশ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপি মাঠের আন্দোলনে থাকলেও জামায়াত দীর্ঘ এ সময় গর্তে লুকিয়েছিল। আওযামী লীগের শাসনামলের শেষের ১০ বছর জামায়াতকে মাঠে দেখা যায়নি। সেই জামায়াত এখন গণভোটের দাবিতে মাঠে! শুধু তাই নয়, দলটির নেতারা এ আভাসও দিচ্ছেন জাতীয় নির্বাচন হোক না হোক গণভোট দিতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে এই গণভোট নিয়ে হঠাৎ করে জামায়াতের এত মাথাব্যথা কেন? দেশ স্বাধীনের পর থেকে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে কোনো নির্বাচনে ৭ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি এমন দলের গণভোটের প্রতি এত আগ্রহ? নভেম্বরে গণভোটের দাবির নেপথ্যে কী অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে? জামায়াত পছন্দ করেন না এমন বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঐকমত্য কমিশন গণভোটের সময় নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিয়ে জামায়াতের দাবি জোরালো করে তুলেছে। আর জামায়াত কার্যত আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে দিল্লির এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চাচ্ছে। তর্কের খাতিরে ধরে নিচ্ছি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ মতো অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটের আয়োজন করলো জাতীয় নির্বাচনের আগেই।
আর এ গণভোটে ৪৮টি বিষয় উপস্থাপন করা হবে। যারা ৪৮ বিষয়ের কিছু বিষয়ে একমত নন তারা কিভাবে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট দেবেন? দ্বিতীয়ত, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের আয়োজন করা হলে গণভোটের পক্ষে (হ্যাঁ) জামায়াত এবং বিপক্ষে (না) বিএনপি ক্যাম্পেইন করলো। ভোট গণনার পর ‘না’ জয়যুক্ত হলো; তাহলে পরিস্থিতি কেমন হবে? গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, সংস্কার এসবের কি হবে? পলাতক হাসিনা ও তার রাজনৈতিক মুরুব্বি ভারত তো সেটাই চাচ্ছে। এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে অনিবার্যভাবেই দেশ কী রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অরাজকতা এমনকি সংঘাত পরিস্থিতি তৈরি হবে না? আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী বর্তমানে নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত বাড়ছে না? অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তৈরি করেছিল সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মোটা দাগে মতৈক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টায়। দীর্ঘ ৮ মাস ধরে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে কাজটি করেছে তারা। কিন্তু গণভোট প্রশ্নে ঐকমত্য কমিশনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে কেন? আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন করেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আনা যায়নি। বিদেশিরা নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ ছাড়া বিনিয়োগ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। অর্থনীতিকে সচল করতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের লক্ষ্যে সব সব ধরনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। গতকালও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে নির্বাচনী প্রস্তুতি সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে কারা কোন দায়িত্ব পালন করবেন সে ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘নির্বাচন বানচালের জন্য ভেতর থেকে, বাইরে থেকে অনেক শক্তি কাজ করবে। ছোটখাটো নয়, বড় শক্তি নিয়ে বানচালের চেষ্টা করবে। হঠাৎ করে আক্রমণ চলে আসতে পারে। এই নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে। যত ঝড়ঝঞ্ঝাই আসুক না কেন, আমাদের সেটা অতিক্রম করতে হবে।’ এই যখন পরিস্থিতি তখন জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটকে অধিক প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে কেন? পলাতক হাসিনা হুমকি-ধমকি দিয়েই যাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ চায় বাংলদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো নাজুক হোক। অর্থনীতি ভেঙে পড়–ক। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত বেড়ে যাক। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বদলে বাংলাদেশ অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হোক। জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াতের গণভোটের দাবি হাসিনার প্রত্যাশা কি পুরণ করবে না? তাহলে জাতীয় নির্বাচন হোক না হোক গণভোট করতে হবে এমন দাবি করে জামায়াত কার হয়ে খেলছে? আর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে বেশির ভাগ দল জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট করার প্রস্তাব দিলেও কমিশন কেন সে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলো? জুলাই সনদ থেকে নোট অব ডিসেন্ট তুলে দিলো।
ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া প্রতিবেদনে বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টগুলো তুলে দেয়ার সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঐকমত্য কমিশন প্রতিবেদনে নোট অব ডিসেন্টগুলো নেই। আমাদের মতামত পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে, ইগনোর করা হয়েছে। এটা তো ঐকমত্য হতে পারে না। তাহলে ঐকমত্য কমিশনটা করা হয়েছিল কেন? ঐকমত্য কমিশন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সেখানে বলেছে জাতীয় নির্বাচনের দিন কিংবা তার আগে যেকোনো সময় গণভোট হতে পারে। অর্থাৎ বিষয়টি অনিশ্চয়তায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এতে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জামায়াতের অবস্থান পরিষ্কার যদি ঐকমত্য কমিশন নভেম্বরেই গণদাবির ভিত্তিতে নির্বাচনের আগে গণভোটের তারিখ নির্ধারণ করে দিত, তাহলে এত জটিলতা সৃষ্টি হতো না। আমরা যারা আগে থেকেই নির্বাচনের আগে গণভোট চাই, তারাও আমাদের অবস্থান জানাতে পারছি। ফলে কমিশন নিজে বিতর্ক এড়িয়ে গেছে। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, কোনো কারণে যদি জাতীয় নির্বাচন সঠিক সময়ে নাও হতে পারে, আমরা আশা করি, সঠিক সময়ে ইনশাআল্লাহ হবে, তখনও তো জুলাই সনদ তো আমাদের পাস করতে হবে। বিগত সময়ে ১৭ আর ২১ দিনের মাথায় দু’টি গণভোট হয়েছে। এবারও নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তারিখ ঘোষণা হলে মাসের শেষদিকে গণভোট হতে পারে। কারণ এতে জাতীয় নির্বাচনের মতো সময় লাগবে না। খুব বেশি খরচও হবে না।
জুলাই সনদে এখনো স্বাক্ষর না করলেও সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশমালা সরকারের কাছে হস্তান্তরের পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তিন দফা দাবি তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি প্রথমত, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশকৃত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের প্রথম খসড়াটি (প্রস্তাব-১) গ্রহণ করার মাধ্যমে জুলাই সনদের সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সংবিধান সংস্কার বিলের খসড়া দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে এবং তা জনগণের অবগতির জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আইনি ভিত্তিসম্পন্ন আদেশের খসড়া সরকার গ্রহণ করলেই কেবল এনসিপি এই সনদে স্বাক্ষর করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বা অগ্রগতি তৈরি হবে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে রাজনীতিবিদদের অতীতে কোনো ধারণা ছিল না। তারপরও আমরা এর কার্যক্রমে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করেছি। কমিশন সুপারিশ করেছে ভালো কথা। কিন্তু অধ্যাদেশের যে কথা বলা হয়েছে, তা তো সংবিধানে নেই। তাই বিষয়টি পরবর্তী সংসদের ওপরই ছেড়ে দিতে হবে।
সৌজন্যঃ স্টালিন সরকার, ইনকিলাব।
