দেশে ফিরে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম-আবারো ইসরাইলে যাবো

জাতীয় শিরোনাম

আবারও ফিলিস্তিনে যাবেন বলে জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। ইসরাইলের কারাগারে বন্দি থাকার সময় অনশন করেছেন বলেও জানান তিনি। শহিদুল আলম বলেন, আমরা আবারও ফিলিস্তিনে যাবো এবং হাজারটা জাহাজ নিয়ে যাবো। যেহেতু গ্লোবাল লিডাররা যাবে না, আমরা অ্যাকটিভিস্টরা আন্তর্জাতিকভাবে একটা নেটওয়ার্ক দাঁড় করাবো এবং আবারও ফিলিস্তিনে যাবো।

ইসরাইলের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরে গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীর দৃক পাঠ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসরাইলি বাহিনীর হাতে বন্দি থাকার অভিজ্ঞতা জানিয়ে দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আমাদের ওপর মানসিক অত্যাচার বেশি করা হয়েছে। আমাদের আটক করে জাহাজ থেকে নামানোর পর হাত পেছনে নিয়ে বেঁধে যেখানে হাঁটুমুড়ে বসানো হয়েছিল, সেখানে ইসরাইলি বাহিনী আগে মূত্রত্যাগ করেছিল। সেই নোংরা জায়গায় আমাদের রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, এরপর আমার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইসরাইলি বাহিনী ফেলে দেয়। আমি যতবার সেটি তুলেছি ততবার আমার ওপর ইসরাইলি বাহিনী চড়াও হয়েছে। নিজেদের মধ্যে কথা বলায় আমাদের দুজন সঙ্গীকে মেশিনগানের ব্যারেল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ফিলিস্তিনে ফ্লোটিলা যাত্রার মূল উদ্দেশ্য ছিল গাজার অবরোধ ভাঙা। ইসরাইলিরা সেখানে সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রবেশাধিকার অবরোধ করে রেখেছে। এই অবরোধ ভাঙাই ফ্লোটিলা যাত্রার মূল উদ্দেশ্য ছিল। ত্রাণ বিতরণ তো একটি সিম্বলিক মাত্র। তিনি বলেন, ত্রাণ দেওয়ার জন্য তো দেশটিতে শত শত ট্রাক অপেক্ষা করছে। প্রবেশ অধিকার পাচ্ছে না বলে সেই ত্রাণ প্রবেশ করতে পারছে না।
শহিদুল আলম আরো বলেন, ইসরাইলের সবচেয়ে গোপন কারাগারে আমাদের রাখা হয়েছে। কারাগারে আমরা অনশন করেছিলাম। কোনও খাবার খাইনি। তবে শারীরিক দুর্বলতার কারণে কয়েকজন খাবার খেয়েছেন। তিনি বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ করে ইসরাইলি বাহিনী মেশিনগান নিয়ে সেলের মধ্যে ঢুকে যেত। তারা জোরে আওয়াজ করত, চিৎকার করে দাঁড়ানো বা অন্য আদেশ দিত এবং আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করত।

দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো বলেন, ফিলিস্তিনের গাজায় সমুদ্রের পথে এই যাত্রায় বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে সাড়া দিয়েছে, উৎসাহ দিয়েছে, পৃথিবীর অন্যকোনও দেশ এতটা সাড়া দেয়নি। এমনকি সুমুদ ফ্লোটিলা বিষয়ে প্রধাণ উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সরব ভূমিকা দৃষ্টান্তমূলক।

এর আগে গতকাল শনিবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান শহিদুল আলম। এর আগে শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২৫ মিনিট) তাকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ইসরাইল থেকে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তখন তাকে স্বাগত জানান ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. মিজানুর রহমান। পরে ইস্তাম্বুলের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শহিদুল আলম ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের নৃশংসতা বন্ধ ও গাজায় ইসরাইলি নৌ অবরোধ ভাঙার প্রত্যয় নিয়ে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ নামে একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গাজা অভিমুখে ওই নৌযাত্রা শুরু করেছিল। ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে আত্মপ্রকাশ করা আরেক উদ্যোগ থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজার আটটি নৌযানও এ যাত্রায় অংশ নিয়েছিল। মোট নয়টি নৌযানের এ বহরে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও অধিকারকর্মীরা যোগ দিয়েছিলেন। সেই দলে ছিলেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। গত বুধবার ওই নৌবহরে আক্রমণ করে সব অধিকারকর্মী ও নাবিককে ধরে নিয়ে যান ইসরাইলি সেনারা।

পরে শহিদুল আলমসহ আটক অনেককে ইসরাইলের কেৎজিয়েত কারাগারে নেওয়া হয়। ইসরাইলে আটক হওয়ার পর থেকেই শহিদুল আলমের মুক্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার জর্ডান, মিসর ও তুরস্কের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।

কারামুক্ত হয়ে শহিদুল আলম ইসরাইল থেকে তুরস্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন। শহিদুল আলমের মুক্তি ও ইসরাইল থেকে তার প্রত্যাবর্তনে সাহায্য করার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *