
আইনি ভিত্তির মাধ্যমে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের আলোকে অবিলম্বে জরুরি আদেশ জারি এবং জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবিতে সরকারকে চাপে রাখার কৌশলে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের নিয়ে সক্রিয় রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রেখেই সরকারকে চাপে রাখার কৌশলে সক্রিয় রয়েছে দলটি। তারা রাজনৈতিক ঐকমত্যের লক্ষ্যে বিএনপিকে দায়িত্ব নিয়ে আলোচনার আহ্বান যেমন জানিয়েছে, তেমনি সরকারকেও রেফারির ভূমিকা নিতে বলেছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে গত ৩ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার করে সম্ভাব্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারকে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রত্যক্ষ বা প্রকাশ্য আলোচনার বিষয়টি দেখা না গেলেও সরকারকে চাপে রাখার নীতির ধারাবাহিকতায় জামায়াতে ইসলামী যুগপৎ সঙ্গীদের নিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পাঁচ দফা গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করে আসা যুগপৎ সঙ্গী আটটি রাজনৈতিক দল জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
১১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর ২টায় ঐতিহাসিক পল্টন মোড়ে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এমন কর্মসূচির মাধ্যমে আগাম আওয়াজ তুলে সরকারকে চাপে রেখে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
গত ৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আজ স্মারকলিপি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে দেওয়ার পরও যদি দাবি মানা না হয়, অবস্থার উন্নতি না হয় তাহলে ১১ নভেম্বর চলো চলো ঢাকা চলো কর্মসূচি। আগামী ১১ তারিখ ঢাকা মহানগরী হবে জনতার নগরী। লড়াই হবে।’
জামায়াতে ইসলামী সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে পাঁচ দফা গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনরত আটটি রাজনৈতিক দলের পূর্বঘোষিত ১১ নভেম্বরের ‘জনসভা’ বাস্তবায়ন কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আবদুর রহমান মুসা, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আবদুস সবুর ফকির ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা ও ইয়াছিন আরাফাত, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
বৈঠকে জনসভা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং জনসভা সফল করার লক্ষ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। জনসভা সর্বাত্মকভাবে সফল ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য বৈঠক থেকে ঢাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
