আ.লীগ ও জামায়াতপন্থি ডিসিদের নিয়োগে বিএনপির আপত্তি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিবের চুক্তি বাতিলের দাবি, প্রত্যাহার হতে পারেন আরো অনেক কর্মকর্তা

দেশের ৫০ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই প্রশাসনে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডিসি ফিটলিস্টের মৌখিক পরীক্ষা যদিও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে করা হয় কিন্তু ডিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে মুখ্যসচিবই মূখ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পূর্বের ইকোনোমিক ক্যাডারের উপসচিব ফরিদির সাহায্য নিয়ে নিয়োগের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেন বলে জানা গেছে। তার আগে প্রথম দফায় ডিসি নিয়োগ নিয়ে ঘোর আপত্তি তুলেছিল বিএনপি। অন্যদিকে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবসহ সকল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সচিবদের চুক্তি বাতিলের বিষয়ে জনপ্রশাসন সচিবের সাথে দেয়া করেছে বিএনপি। সেই প্রেক্ষিতে দলটির একটি প্রতিনিধি দল (সাবেক সচিব) মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, দলীয় আনুগত্য নয়, যোগ্য ও নিরপেক্ষ এবং দক্ষ কর্মকর্তাদের ডিসি পদে নিয়োগ দিতে। সেই সাথে নতুন ডিসি নিয়োগে যাদের নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে, তাদের প্রত্যহার করে বিসিএস ২৫ ও ২৭ ব্যাচ) থেকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। এরপরও পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনে দুই দফায় ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৫০ জেলায় ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তার রাজনৈতিক আনুগত্যই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ জন জামায়াতপন্থি ও বাকিদের মধ্যে প্রায় ১৫ জন আওয়ামী লীগপন্থি ও পাঁচজন নিরপেক্ষ বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলের যারা মন্ত্রী ও সচিবদের পিএসের দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। কুড়িগ্রাম জেলার নতুন ডিসি এবং রংপুর জেলার ডিসি নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনে সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাঝে দ্বিমত রয়েছে। কমিটি তাদের জন্য সুপারিশ করেনি। তারপরও কুড়িগ্রাম জেলার ডিসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগ পাওয়া ডিসিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাদের আবারো প্রত্যাহার করা হতে পারে। এ নিয়ে প্রশাসনের ভেতর-বাইরে অনেকেই মনে করছেন প্রভাবশালী দুই কর্মকর্তার ভূমিকা, রাজনৈতিক পরিচয়ের উপস্থিতি এবং এসএসবির সুপারিশ উপেক্ষিত হওয়াই এ বিতর্কের মূল কারণ। নতুন ডিসিরা মাঠপর্যায়ে নিজেদের কর্মদক্ষতা, স্বচ্ছতা ও নেতৃত্বের গুণ দেখিয়ে কী এই বিতর্ক প্রশমিত করতে পারবেন-এখন সেই অপেক্ষায় বলে প্রশাসনের একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এর সাথে একাধিবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করেনি।
মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা, দুর্নীতিমুক্ত পরিচিতি ও ডিজিটাল সেবায় দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়েই এই নিয়োগ করা হয়। এসএসবির সুপারিশ বিবেচনায় থাকা কর্মকর্তাদের ডিসি পদে নিয়োগ দেয়া হয়নি। তবে এসএসবি কোনো বাধ্যতামূলক চূড়ান্ত তালিকা নয়, বরং সরকারের নিজস্ব মূল্যায়ন, জেলার পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কাঠামোর প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই নিয়োগ হয়েছে। যাদের নিয়ে বিতর্ক করা হচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তথ্যভিত্তিক। জেলা প্রশাসক একটি জেলার সরকারের সর্বোচ্চ নির্বাহী। ফলে নিয়োগে পক্ষপাত বা অস্বচ্ছতা থাকলে তা গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এটিই সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক নিয়োগ। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই, গোয়েন্দা সংস্থার মতামত, মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদনসহ পাঁচ স্তরের পরীক্ষার পর প্রজ্ঞাপন জারি হলেও স্বচ্ছতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। নতুন ডিসি নিয়োগের পেছনে প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বিশেষ প্রভাব ছিল-এমন গুঞ্জন চলছে মন্ত্রণালয়ের ভেতরেই। এই দুই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সরকারের সময়েও প্রশাসনে প্রভাবশালী ছিলেন এবং তাঁদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক রয়েছে। নিয়োগের জন্য বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারা লবিং করছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত তালিকার রদবদল হয়েছে। এর পেছনে ওই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার সিদ্ধান্তই মূখ্য ছিল এমন কথা ভেতরে বাইরে আলোচনা চলছে। এদিকে বিএনপিপন্থি কয়েকজন সাবেক সচিব ও অতিরিক্ত সচিব নতুন ডিসি নিয়োগের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি জানিয়েছে। তারপরে ২০ জেলার ডিসিকে প্রত্যাহার করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। আবার সেই রাতে ফ্যাসিস্ট ও জামায়াতপন্থি আমলাদের ডিসি পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই নিয়োগের ফলে মাঠপর্যায়ে সিনিয়র-জুনিয়রের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে। প্রভাবশালী জেলাগুলোতে ভুল অথবা অনভিজ্ঞ সিদ্ধান্ত যে সংকট তৈরি করবে না এ নিশ্চয়তা নেই। ভবিষ্যতে আরো এক দফা রদবদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সাথে দেখা করেছেন। এসময় জনপ্রশাসন সচিব তাদের জানিয়েছেন বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হবে। সেইদিন দুপুরে বিএনপির নেতাদের সাথে কথা বলার পরে রাতে ডিসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা মনে করছেন, যে ৫০ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তা রাজনৈতিকভাবে একপেশে। এমনকি বিএনপিপন্থি সাবেক আমলাদের একটি অংশ চলতি সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাবেন। ইতোমধ্যে নতুন নিয়োগ পাওয়া ডিসিদের তথ্য সংগ্রহ করছে বিএনপি। এসব নতুন ডিসিরা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে কোন কোন মন্ত্রী একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গত ২০১৮ সালে কি দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের বিষয়টি আমলে নিচ্ছে বিএনপি। এগুলো নেয়ার পরে তাদের প্রত্যহারের দাবি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপিপন্থি সাবেক সচিব মো. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এমন নিয়োগ হতাশাজনক। এখানে সিনিয়রটি উপেক্ষিত, অভিজ্ঞতা উপেক্ষিত, আর কিছু ব্যক্তির নেটওয়ার্ককে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবসহ সকল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সচিবদের চুক্তি বাতিলের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।
জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাম্প্রতিক যাদের ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের একটি বড় অংশের সাথে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পৃক্ততা ও অন্য একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের সাথে ঘনিষ্ঠতা ছিলো। বিএনপি ঘনিষ্ঠ সাবেক আমলাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন ৫০ ডিসির মধ্যে অন্তত ২০ থেকে ২২ জনের অতীতে ছাত্রলীগ বা ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার রেকর্ড রয়েছে। ফলে এই নিয়োগকে তাঁরা পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনের আগে এ ধরনের নিয়োগে প্রশাসনে নিরপেক্ষতা আসতে পারে না। তবে সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিসি নিয়োগ রাজনৈতিক পরিচয়ে হয়নি। অভিজ্ঞতা, সততা, দক্ষতাকে প্রাধান্য দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই প্রশাসনে গুঞ্জন চলছিল যে ঢাকা, খুলনা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জে ডিসি নিয়োগ ঘিরে বড় ধরনের রাজনৈতিক লবিং চলছে। এসএসবি এসব জেলায় অভিজ্ঞ উপসচিবদের নাম প্রস্তাব করলেও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের অনেককেই বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালীদের তদবিরে শেষ পর্যন্ত এসএসবির কর্মকর্তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। অথচ প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নিয়ম হলো-ডিসি নিয়োগে এসএসবির সুপারিশ প্রাধান্য পাওয়া। কারণ, এসএসবি মাঠপর্যায়ের তথ্য, কর্মদক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবার ইতিহাস বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে থাকে। সেই তালিকা থেকেই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার হলেও সেই পদ্ধতি পুরোপুরি অনুসৃত হয়নি বলে এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে।
প্রভাবশালী দুই সচিবের ভূমিকা নিয়ে গুঞ্জন : নতুন ডিসি নিয়োগের পেছনে প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বিশেষ প্রভাব ছিল-এমন গুঞ্জন রয়েছে মন্ত্রণালয়ের ভেতরেই। সূত্রগুলো বলছে- এই দুই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সরকারের সময়েও প্রশাসনে প্রভাবশালী ছিলেন এবং তাঁদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক রয়েছে। নিয়োগের জন্য বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারা লবিং করছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত তালিকার রদবদল হয়েছে। এর পেছনে ওই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার সিদ্ধান্তই মূখ্য ছিল এমন কথা ভেতরে বাইরে আলোচনা চলছে। এসএসবি যে তালিকা পাঠিয়েছিল, তার প্রায় এক-চতুর্থাংশ বাদ পড়ে গেছে। বদলে এসেছে এমন কিছু নাম, যারা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে অনেক নিচে। এভাবে উপেক্ষা করলে মাঠ প্রশাসনে হতাশা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
বিতর্কের কেন্দ্রে ঢাকা, খুলনা, গাজীপুর জেলা : ডিসি নিয়োগে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ঢাকা জেলায় ডিসি নিয়োগ নিয়ে। প্রশাসনিকভাবে এই জেলা অতি গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীর মতো জটিল প্রশাসনিক এলাকায় অভিজ্ঞ, সংকট মোকাবিলায় দক্ষ, উন্নয়ন প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় পারদর্শী কর্মকর্তাই নিয়োগ পাওয়ার কথা ছিল এমনই প্রত্যাশা ছিলো প্রশাসনিক মহলে। অতীতেও ঢাকা জেলায় যাকে ডিসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে, তিনি কোন কোন না কোন জেলায় ডিসি হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ছিলেন। এবার নতুন যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি এর আগে কোথাও ডিসি হিসেবে কাজ করেননি। তার মাঠপর্যায়ে সংকট ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম। একইভাবে বিভাগীয় জেলা খুলনায় নতুন ডিসির নিয়োগ নিয়েও একই প্রশ্ন উঠেছে। আবার কুড়িগ্রাম জেলার ডিসি এবং রংপুর জেলার ডিসি নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনে সচিব পযায়ের কর্মকর্তাদের মাঝে দ্বিমত রয়েছে। তারা সুপারিশ করেনি। তারপরও কুড়িগ্রাম জেলার ডিসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিভাগীয় জেলায় নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতদূর সফল হবে সেই প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে। এদিকে ডিসি নিয়োগে যে অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে- তা হলো নতুন ডিসিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অতীতে দুটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিএনপি-ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের দাবি, এদের মধ্যে বেশির ভাগ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছাত্রশিবির-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক যুগ্মসচিব বলেন, প্রশাসনে ছাত্ররাজনীতি থাকা নতুন নয়। কিন্তু এত বড় পরিসরে একই ধরনের প্রোফাইলের কর্মকর্তাদের একসঙ্গে ডিসি করা আগে কখনও দেখিনি। প্রত্যাহারকৃত ২০ ডিসির পদায়ন : দেশের ২০ জন জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রত্যাহারের পর তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে উপসচিব হিসেবে পদায়ন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রত্যাহারকৃত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি মোহাম্মদ সোলায়মানকে পরিকল্পনা বিভাগে, মুন্সীগঞ্জের ডিসি ফাতেমা তুল জান্নাতকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে, নওগাঁর ডিসি মোহাম্মদ আব্দুল আউয়ালকে কৃষি মন্ত্রণালয়ে, খাগড়াছড়ির ডিসি এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকারকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে, লক্ষ্মীপুরের ডিসি রাজীব কুমার সরকারকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে, চট্টগ্রামের ডিসি সাইফুল ইসলামকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে, নেত্রকোনার ডিসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে এবং কুমিল্লার ডিসি মো. আমিরুল কায়সারকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। অন্য প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী- পাবনার ডিসি মোহাম্মদ মফিজুল ইসলামকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে, রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রাবিউল ফয়সালকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে, মাদারীপুরের ডিসি আফছানা বিলকিসকে কৃষি মন্ত্রণালয়ে, বাগেরহাটের ডিসি আহমেদ কামরুল হাসানকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে, যশোরের ডিসি মো. আজহারুল ইসলামকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে, ভোলার ডিসি মো. আজাদ জাহানকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে, মো. ইসরাইল হোসেনকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে, কুড়িগ্রামের ডিসি সিফাত মেহনাজকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে, বরগুনার ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আলমকে স্থানীয় সরকার বিভাগে, সিরাজগঞ্জের ডিসি মুহাম্মদ নজরুল ইসলামকে বিদ্যুৎ বিভাগে, বরিশালের ডিসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এবং রাঙামাটির ডিসি মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।
সাবেক আমলা ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুস সবুর ইনকিলাবকে বলেন, আসলে বিএনপির উচিত হবে প্রশাসনে বড় কর্মকর্তাদের চুক্তি বাতিল করা। তা না হলে নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রথম বড় নিয়োগে যদি বিতর্ক সৃষ্টি হয়, তাহলে জনগণের আস্থায় আঘাত লাগবে। প্রশাসনের মনোবলও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নিয়োগে রাজনৈতিক রং থাকলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পক্ষপাত তৈরি হয়। মাঠপর্যায়ে সেটির প্রভাব সরাসরি পড়ে।
