ট্রাম্পের শুল্ক নিয়ে শঙ্কায় এশিয়ার বাজারেও ধস, মার্কিন শেয়ারের ধাক্কায় প্রভাব

ট্রাম্পের শুল্ক নিয়ে শঙ্কায় এশিয়ার বাজারেও ধস, মার্কিন শেয়ারের ধাক্কায় প্রভাব

অর্থনীতি আন্তর্জাতিক

১১ এপ্রিল, ২০২৫

ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কার মতো নতুন করে উচ্চ শুল্ক আরোপের আশঙ্কায় মার্কিন শেয়ার বাজার ধসে পড়ার পর এশিয়ার বাজারেও আজ তীব্র বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় এশিয়ার শেয়ার সূচকগুলোও নিম্নমুখী হয়েছে।

মার্কিন বাজারের ধসে এশিয়ায় প্রভাব

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—যিনি এবারও নির্বাচনে লড়ছেন—পুনরায় ক্ষমতায় এলে চীনের পণ্যে কড়া শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার খবরে ওয়াল স্ট্রিটে ধস নেমেছিল। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে এশিয়ার বাজারে। গতকাল মার্কিন শেয়ার বাজারের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১.৮% আর ন্যাসড্যাক ২.৩% নিচে নেমে গিয়েছিল, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন।

বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প যদি আবারও বাণিজ্য যুদ্ধের নীতি গ্রহণ করেন, তাহলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, কঠোর শুল্ক নীতির কারণে মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে, যার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার বেশি রাখতে বাধ্য হতে পারে।

এশিয়ার বাজারের অবস্থা

  • জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২.১% নিচে নেমেছে, বিশেষ করে রপ্তানিনির্ভর অটোমোবাইল ও টেক কোম্পানিগুলোতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
  • হংকং এর হ্যাং সেং সূচক ১.৯% কমেছে, আলিবাবা ও টেনসেন্টের মতো চীনা টেক জায়ান্টগুলোর শেয়ার দুর্বল হয়েছে।
  • দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ১.৭% নেমে গেছে, স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স ও এসকে হাইনিক্সের মতো সেমিকন্ডাক্টর স্টকে চাপ তৈরি হয়েছে।
  • চীনের শাংহাই কম্পোজিট সূচক ১.৩% কমেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য উত্তেজনার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের সতর্কতা

এইচএসবিসির এশিয়া কৌশলবিদ ওয়েই লি বলেছেন, “বাজারে আবারও বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প যদি জয়ী হয়ে শুল্ক নীতি বাস্তবায়ন করেন, তাহলে ২০১৮-১৯ সালের মতো পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়েছিল।”

অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ মনে মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকেছেন, যার ফলে এশিয়ার মুদ্রাগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। জাপানি ইয়েন ১৫২-এর নিচে নেমে গেছে, যা হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ার ওয়ান ও চীনের ইউয়ানও দুর্বল হয়েছে।

পরবর্তী কী হতে পারে?

বাণিজ্য নীতির দিকনির্দেশনা বুঝতে বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য ও রাজনৈতিক উন্নয়নের দিকে নজর রাখবেন। পাশাপাশি, এশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে তাদের মুদ্রা স্থিতিশীল রাখতে এবং রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিকে সাপোর্ট দিতে চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।

বর্তমানে, প্রোটেকশনিস্ট নীতির ভয়ে বিনিয়োগকারীরা আরও অস্থিরতার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।

—রয়টার্সের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *