ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত: চীনের সাথে শুল্কযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নরম হচ্ছে

ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত: চীনের সাথে শুল্কযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নরম হচ্ছে

অর্থনীতি আন্তর্জাতিক

খবর৫২.কম ডেস্ক:


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সাথে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে তার পূর্বের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। হোয়াইট হাউজে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক “অনেকটা কমানো হবে, তবে একেবারে শূন্য হবে না।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মার্কিন বাজার অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং কয়েক সপ্তাহ ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ চলছে, যার ফলে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক ১৪৫% ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি বলেন, “১৪৫% অত্যন্ত বেশি এবং এটা এতটা থাকবে না। অনেকটাই কমে যাবে, তবে শূন্য হবে না।”

ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন, যখন সাংবাদিকরা তাকে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের মন্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। বেসেন্ট এর আগে দিনেই এক বিনিয়োগ সম্মেলনে বলেন, চীনের সাথে শুল্কযুদ্ধ কার্যত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে এবং এটি টেকসই নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শীঘ্রই এই সংঘাত হ্রাস পাবে।

বেসেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পুরোপুরি বিচ্ছেদ নয়, বরং বাণিজ্যের ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বেসেন্টের এই আশাব্যঞ্জক বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পরই ওয়াল স্ট্রিটের সূচকগুলো দিনের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে যায়। এশিয়ার শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। হংকংয়ের হ্যাং সেং ইনডেক্স ২% এর বেশি, জাপানের নিক্কেই ২২৫ প্রায় ২% এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১.৫% বৃদ্ধি পায়।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার ট্রাম্প ও বেসেন্টের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, তবে তাদের “হুমকি ও চাপ বন্ধ করে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক স্বার্থে” আলোচনা করতে হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, “চুক্তির কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে চাপের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করে ফল পাওয়া সম্ভব নয় – এভাবে চীনের সাথে কাজ করা যাবে না, এটা কখনোই কাজ করবে না।”

তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে শুল্কযুদ্ধ চালু করলেও চীনের অবস্থান পরিষ্কার – আমরা যুদ্ধ চাই না, তবে ভয়ও পাই না। যদি যুদ্ধ হয়, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ব। আর যদি আলোচনার পথ খোলা থাকে, তাহলে আমরা প্রস্তুত।”

ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন চীনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচিত হচ্ছে। “ট্রাম্প ভয় পেয়ে পিছু হটেছে” শীর্ষক হ্যাশট্যাগ বুধবার উইবো-তে ১৫ কোটিরও বেশি বার দেখা হয়েছে।

বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতি এরইমধ্যে একে অপরের ওপর রেকর্ড পরিমাণ শুল্ক আরোপ করেছে, যা বৈশ্বিক বাজারকে উত্তাল করেছে, সরবরাহ চেইনে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে এবং মন্দার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

চীন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক ১২৫% পর্যন্ত বাড়িয়েছে, মার্কিন কোম্পানিগুলিকে “অবিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা” ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় যুক্ত করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

এছাড়াও চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা বোয়িংয়ের অন্তত দুটি জেট ফিরিয়ে দিয়েছে এবং হলিউড চলচ্চিত্রের সংখ্যা সীমিত করেছে।

তবুও ট্রাম্প দাবি করেন, তার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে “খুব ভালো সম্পর্ক” রয়েছে এবং তিনি আলোচনার জন্য শি-র উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।

মঙ্গলবার ট্রাম্প আবারও শি-কে আলোচনার আহ্বান জানান এবং বলেন, “আমরা খুব ভদ্র থাকবো।” তিনি আরও বলেন, “তারা ভদ্র হবে, আমরাও হবো, দেখব কী হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের একটা চুক্তি করতেই হবে, নাহলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করতে পারবে না।”

এদিকে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন আলোচনার জন্য প্রতিনিধি মনোনীত করলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো সমন্বয়কারী না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প হয়তো নিজেই আলোচনার নেতৃত্ব দিতে চান, তবে চীন সাধারণত এমনভাবে কাজ করে না, মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট এক সূত্র।

সাম্প্রতিককালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বিতর্কিত মন্তব্যের বিরোধিতা করে চীন কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এই মন্তব্য চীনা ইন্টারনেটে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *