টিকিটের নামে প্রতারণা ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মামলা

প্রচ্ছদ শিরোনাম

অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্টের (এফইবিডি) বিরুদ্ধে বিমান টিকিটের নামে প্রতারণা করে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (১৩ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, সিআউডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে তথ্যের ভিত্তিতে গত ১১ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সাতজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় আসামিরা হলেন- ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, প্রেসিডেন্ট এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন ও আব্দুল গণি মেহেদী, হেড অব ফাইন্যান্স মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেন।

২০১৬ সালে অনলাইনভিত্তিক বিমান টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট। পরে প্রতিষ্ঠানটি হোটেল বুকিং, হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ট্রাভেল সেবা চালু করে। ২০১৯ সালে FEBD নামে যৌথমূলধনী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট ও FEBD উভয় নামেই ব্যবসা ও ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনা করা হতো।

প্রতিষ্ঠানটি অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করে। তবে অনেক ক্ষেত্রে অর্থ নেওয়ার পরও নির্ধারিত বিমান টিকিট সরবরাহ করা হয়নি। এদিকে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম ২০২৫ সালের ১ আগস্ট দেশ ত্যাগ করেন।

সিআইডির দাবি, FEBD-এর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ পরে ফ্ল্যাইট এক্সপার্টের বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ অর্থের উৎস, মালিকানা ও প্রকৃতি গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে।

সিআইডির অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশত্যাগের পরও প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন পরিচালক ও হেড অব ফাইন্যান্স বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন।

একই সঙ্গে বিভিন্ন আইএটিএ অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করা হলেও বহু গ্রাহককে সম্পূর্ণ মূল্য নেওয়ার পরও টিকিট দেওয়া হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ গ্রহণের ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন আরও জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে সেই অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং সংঘটিত হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *