
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। মহাসড়কের পাশাপাশি আশপাশের গ্রামের পর গ্রামও প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সড়কের ওপর হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
শনিবার (১০ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক যাত্রীকে কাপড়-চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মাথায় নিয়ে পানির মধ্যে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও ছোট যানবাহন বন্ধ হয়ে পড়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ভারী যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানজট।
.
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিচু এলাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই সড়ক পানিতে ডুবে যায়। এতে প্রতিবার বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের শিকার হতে হয় এলাকাবাসীকে।
.
এদিকে মহাসড়ক ডুবে যাওয়ায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। পাশাপাশি যানবাহনের বিকল হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।
স্থানীয়রা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ড্রেন ও খাল সংস্কার এবং মহাসড়কের জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, তা না হলে সামনের দিনগুলোতে টানা বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
এদিকে, মহাসড়কে জমে থাকা বন্যার পানিতে অনেক সৌখিন মানুষকে জাল ফেলে মাছ ধরতে দেখা গেছে। সড়কটি যেন সাময়িকভাবে মাছ ধরার স্থানে পরিণত হয়েছে। এমন দৃশ্য পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও এটি মহাসড়কের ভয়াবহ জলাবদ্ধতারই প্রতিচ্ছবি। একদিকে মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ সেই সুযোগে মাছ ধরায় ব্যস্ত ছিলেন।
