টাকার জন্য স্ত্রীর গায়ে ফুটন্ত ভাত ঢেলে ঝলসে দিল স্বামী

বাংলাদেশ

টাকা না দেওয়ায় স্ত্রী সুলতানা খাতুনের শরীরে ফুটন্ত ভাত ঢেলে দেন এক পাষণ্ড স্বামী। এতে তার ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত ঝলসে যায়। এ সময় শাশুড়ি পাশেই ছিলেন। স্বামী রবিউল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এমন অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন সুলতানার পরিবার।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন সুলতানা। তার শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ ঝলসে গেছে। তিনি শঙ্কামুক্ত কিনা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর বলা সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। তার পাশে তিন মাসের একটি শিশু সন্তান রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

দেবরের জন্য বিদেশ যেতে টাকা না দেওয়ায় গৃহবধূ সুলতানাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে জানা গেছে।

সুলতানা খাতুন (২৬) চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার বেগমপুর গ্রামের কলোনীপাড়ার হাসান শেখের মেয়ে। কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের নগরবাকা গ্রামের রাজমিস্ত্রি রবিউল বিশ্বাসের স্ত্রী।

সুলতানা খাতুনের ভাই সোহেল বলেন, আমার বোনের স্বামী রবিউলের ছোট ভাই মাসুদ সম্প্রতি বিদেশে যাবেন। এ জন্য বাপের বাড়ি থেকে নগদ দুই লাখ টাকা আনার জন্য আমার বোন সুলতানাকে চাপ প্রয়োগ করেন। এ নিয়ে তিন মাস ধরে টাকার জন্য শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করে আসছে স্বামী ও শাশুড়ি।

সোমবার (২১ জুলাই) সকালে এ ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে বোনের শরীরে ফুটন্ত ভাত ঢেলে দেন স্বামী। এতে তার ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত ঝলসে যায়। এ সময় শাশুড়ি পাশেই ছিলেন। প্রতিবেশিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত বোনের শ্বশুর বাড়ি যাই। সেখানে আমাদের উপরে বোনের শ্বশুর বাড়ির লোকজন চড়াও হন।

একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বোনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়ার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বোনকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা গরিব মানুষ। তিন বছর আগে বোনকে বিয়ে দিয়েছি। এরপর আসবাবপত্র থেকে শুরু করে যৌতুকের টাকাও দিয়েছি। তারা আমার বোনকে নির্যাতন করতো দেখেই এসব দিয়েছি, তবুও তাদের মন গলেনি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে গণমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বসেও কোনো লাভ হয়নি।

তিনি বলেন, মাস তিনেক আগে তাদের কোলজুড়ে একটি মেয়ে আসে। এরপর থেকেই তার ছোট ভাই বিদেশে যাবে বলে নগদ দুই লাখ টাকা দাবি করে বোনের স্বামী ও শাশুড়ি। এ জন্য তারা নির্যাতন চালায়। নিজ নামে এনজিও থেকে টাকাও তুলে দিতে বলে। সম্মতি না দেওয়ায় আবারও মারধর করে তাকে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। দ্রুত আমরা মামলা করব।

সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে মেঝেতে চিকিৎসাধীন সুলতানা খাতুন যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। তার শয্যার পাশে মা, বড় বোন ও ভাই সোহেলকে দেখা যায়। পাশে নানির কোলে সুলতানার তিন মাসের মেয়ে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র সার্জারি কনসালট্যান্ট ডা. এহসানুল হক তম্ময় বলেন, সুলতানার শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ ঝলসে গেছে। শঙ্কামুক্ত কিনা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর বলা সম্ভব। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার ওসি মোমিনুল ইসলাম বলেন, এ ধরণের সংবাদ আমার জানা নেই। অভিযোগ বা মামলা হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *