জেল থেকে বেরিয়ে পাচ্ছেন ১৭ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক

৫০ বছরের দীর্ঘ কারাভোগ শেষে মুক্তি পেয়েছেন জাপানের সাবেক বক্সার আইওয়াও হাকামাতা।৮৯ বছর বয়সী এই ব্যক্তি তার বস, স্ত্রী এবং তাদের দুই সন্তানকে হত্যার দায়ে কারাদণ্ড ভোগ করেন। গত বছর তাকে নির্দোষ বলে রায় দেয় আদালত। তাই দীর্ঘসময়ের এই ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৪ লাখ ডলার দিয়েছে সরকার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৭ কোটি টাকা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। 

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ৫৮ বছরের একটি আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক রায়ে তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। এই রায় জাপানের দীর্ঘতম চলমান আইনি লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘটে। প্রধান বিচারক কোশি কুনুই ঘোষণা করেন যে, ‘ইওয়া হাকামাতা নির্দোষ, প্রমাণ হিসাবে দেখানো লাল দাগযুক্ত পোশাকটি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ষড়যন্ত্র করে তৈরি করা হয়েছিল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিও জাল করা হয়েছিল।’ দীর্ঘ সময় ধরে ন্যায়বিচার দিতে দেরি হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিচারক কুনুই। 

এর পর সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণের আবেদন করেন হাকামাতার আইনজীবী। তিনি বলেন, ৪৭ বছর বন্দী থাকায় হাকামাতা শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার এই দাবিতে একমত পোষণ করেন বিচারক কুনি। তিনি গতকাল সোমবার ১.৪৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। 

৮৯ বছর বয়সী হাকামাতা একজন পেশাদার বক্সার ছিলেন। ১৯৬৮ সালে তার কর্মস্থলের মালিক, তার স্ত্রী এবং তাদের দুই কিশোর সন্তানকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। প্রাথমিকভাবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও, কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়। এবং এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তিনি মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কারাগারের একটি ছোট ঘরে দিন কাটান। 

সবশেষ আদালত প্রমাণ পেয়েছে যে হাকামাতার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণগুলি জালিয়াতি করা হয়েছিল। অপরাধের এক বছরেরও বেশি সময় পরে একটি পোশাক উদ্ধার করা হয়। পোশাকে লেগে থাকা রক্তের দাগ তার বিরুদ্ধে প্রধান প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তবে ২০১৪ সালে ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায় এই দাগের সঙ্গে হাকামাতার ডিএনএ মেলে না। এই প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং পুনর্বিচার মঞ্জুর করা হয়। এই বছর আদালত প্রমাণ করেন তার বিরুদ্ধে উপস্থাপন করা প্রমাণগুলি জালিয়াতি করা হয়েছিল। এবং এরপর তাকে সম্পূর্ণরূপে নির্দোষ ঘোষণা করেন আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *