ঢাকা, ২৩ মার্চ, ২০২৫:
গত বছরের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার গড়ে তুলেছিল ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশন থেকে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ‘ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)’ গত দুই মাস ধরে বন্ধ থাকায় সহায়তা প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। এর ফলে অনেক শহীদ পরিবার ও আহত প্রত্যাশীদের জন্য চিকিৎসা খরচ বহন করা এবং জীবনধারণ করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
জাহিদ-এ-রহিমের কাহিনী
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম দিকেই শহীদ হন জাহিদ-এ-রহিম। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ১৯শে জুলাই ছাত্রলীগের আক্রমণ এবং পুলিশের গুলিতে তিনি ঝাঁজরা হয়ে পড়েন এবং শহীদ হন। কিন্তু এখনো তার নাম সরকারি শহীদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তার বাবা মো. আব্দুর রহমান মণ্ডল বলেন, “আমার ছেলে জুলাই আন্দোলনের প্রথম দিকেই শহীদ হয়েছে। সমস্ত কাগজপত্র জমা দিয়েছি, ফিল্ড ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এমআইএস বন্ধ থাকায় আমি কোনো সরকারি সহায়তা পাচ্ছি না।”
আহতদের দুর্দশা
জুলাই অভ্যুত্থানে আহত মো. ইসমাঈল হোসেনের ক্ষেত্রেও অবস্থা সেইরকম। চট্টগ্রামের বহদ্দার হাট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তার ডান পায়ের হাড় সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। দুইবার অপারেশন করাতে হয়েছে এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ হয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকা। কোনো সরকারি সহায়তা না পেয়ে তিনি বলেন, “আমি জুলাই আন্দোলনের প্রথম দিকেই আহত হয়েছি। সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি, কিন্তু এমআইএস বন্ধ থাকায় আমি কোনো সহায়তা পাচ্ছি না। চিকিৎসা খরচ বহন করা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।”
এমআইএস বন্ধের প্রভাব
এমআইএস বন্ধ থাকার ফলে সারা দেশে প্রায় ৩০ শতাংশ আহত ও শহীদের নাম এখনো তালিকাভুক্ত হয়নি। ঢাকা জেলায় একা ১২৬টি ফাইল ভেরিফাইড অবস্থায় অপেক্ষা করছে এমআইএস-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য। ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “এমআইএস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তারা যদি এটি খুলে দেন, আমরা দ্রুত কাজ শুরু করব।”
সরকারের দায়িত্ব
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন বলেন, “এমআইএস না খোলার কারণে প্রতিদিনই আহত ও শহীদ পরিবার ফাউন্ডেশনে আসছেন এবং তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনুরোধ করছেন। আমরা তাদের গাইড করছি, কিন্তু এমআইএস বন্ধ থাকায় নতুন কেউ সহায়তা পাচ্ছেন না। সরকারকে এটা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এমআইএস চালু করার দাবি জানাই।”
সমাধানের প্রত্যাশা
গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের দলনেতা মো. মশিউর রহমান (যুগ্ম সচিব) বলেন, “এমআইএস বন্ধ থাকায় আমরা কিছু করতে পারছি না। আমরা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অপেক্ষায় আছি। এটি খুলে দেওয়া হলেই আহত ও শহীদ পরিবারের সহায়তা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে।”
সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন, “আমরা দেশের জন্য ত্যাগ করেছি। এখন আমাদের পাশে সরকার থাকুন।”
khobor52.com
