জুনে ঢাকায় প্রবাসী ফুটবলারদের ‘হাট’

খেলা

আগামী ১০ই জুন এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হোম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ওই ম্যাচের মধ্যদিয়ে দেশের মাটিতে অভিষেক হবে হামজা চৌধুরীর। হামজার সঙ্গে ওই ম্যাচে আরো প্রবাসী ফুটবলার খেলানোর পরিকল্পনা আছে বাংলাদেশের ফুটবল ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)- এর। তাইতো জুনের ম্যাচকে সামনে রেখে প্রবাসী ফুটবলারদের ‘হাট’ বসাতে যাচ্ছে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ছেলে ও মেয়ে মিলিয়ে ত্রিশের বেশি প্রবাসীকে ৩ থেকে ৫ দিনের ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে পরখ করা হবে। বোঝাই যাচ্ছে সাফল্য খরা ঘোচাতে তাবিথ আউয়ালের বাফুফে আমদানিমুখী হতে চলেছে। তাতে একপক্ষের মধ্যে তৈরি হয়েছে অস্বস্তি। শিলংয়ে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ দিয়ে লাল-সবুজের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে খেলা হামজা চৌধুরীর। হামজার নৈপুণ্যে ১৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে শিলংয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে পাওয়া সাফল্যের কারণেই হামজার পাশাপাশি এখন ফাহামিদুলসহ অন্যদের নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছে বাফুফে। কিন্তু সৌদি আরবে ‘ফাহামিদুল কাণ্ডে’ আবার ভয়ও আছে। এমনিতে কেউ কারও জায়গা ছাড়তে নারাজ। এটাই পৃথিবীর নিয়ম। এই যেমন সৌদি আরবের তায়েফে হাভিয়ের কাবরেরার কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ইতালির সিরি ডি লীগে খেলা ফাহামিদুল পারফরম্যান্স দিয়ে সবার দৃষ্টি কেড়েছিলেন। তার গতি, ড্রিবলিং, পাসিং, শুটিং দেখে সবাই অনেকটা মুগ্ধ হয়েছিলেন। এমনকি যেখানে স্থানীয় ফুটবলারদের মান সবসময় বলা হয় ১৮ থেকে ২০, সেখানে ফাহামিদুল এক লাফে গ্রাফ ৩০-এ উন্নীত করেছিলেন! কিন্তু এখানে যা হয়। কিছু স্থানীয় ফুটবলারের সহজেই তা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল। টিম সূত্রে জানা গেছে, ফাহামিদুলকে শুরু থেকেই অনেকেই বুলিং করতে থাকেন। যেহেতু ইতালির উন্নত পরিবেশে বড় হয়েছেন। সেখানকার উন্নত মানসিকতা দেখেছেন। তাই তায়েফে প্রতিকূলতা ফাহামিদুলের কাছে অবাক করারই বিষয় ছিল। এজন্য অনেক কিছু মেনেও নিতে পারেননি। পুরো পরিস্থিতিতে দলের ঢাকায় আসার আগে কোচ যখন ফাহামিদুলকে ইতালি ফেরত পাঠাতে বলেন, তখন সবাই অবাক। এমনকি ১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে দলের সঙ্গে রাখার প্রয়োজনবোধ করেননি! আর তায়েফে এই বুলিংয়ের নেতৃত্বে অন্তত চারজন সিনিয়র খেলোয়াড় ছিল বলে সূত্রে জানা গেছে। এই অবস্থায় আসছে জুনে প্রবাসী ফুটবলাদের ‘হাট’ বসতে যাচ্ছে। বাফুফের সূত্রে জানা গেছে চলতি সপ্তাহে ট্রায়ালে আসছেন দুইজন প্রবাসী ফুটবলার। এদের মধ্যে এলমান মতিন আসবেন লন্ডন থেকে। আর আব্দুল কাদির আসবেন ইতালি থেকে। দুজনই জুনিয়র ডিভিশনের ফুটবলার এবং তারা সিলেটের ছেলে। এই দুইজন আসবেন সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলে ট্রায়াল দেওয়ার জন্য। একটি সূত্রের দাবি ইতিমধ্যে কানাডা থেকে ফারহান এসেছেন বাংলাদেশে, ২০ বছর বয়সী ফারহান ওখানকার জুনিয়র লীগে খেলেন। তিনিও ট্রায়াল দেবেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সামিত সোম নামের আরও একজন কানাডিয়ান ফুটবলার বাংলাদেশ জাতীয় দলে ট্রায়াল দিতে পারেন। তার সঙ্গে বাফুফের যোগাযোগ হয়েছে। এ মিডফিল্ডার বাংলাদেশে আসবেন কিনা সেটি নিশ্চিত হয়নি বাফুফে। কারণ সামিত তার ক্লাব ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে সময় নিয়েছেন। তিনি আসলে আসবেন জুনের ম্যাচকে সামনে রেখে।  ডেনমার্ক  প্রবাসী সাকিব মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি নাকি ২৭ জন প্রবাসী ফুটবলার নিয়ে জুনে ট্রায়াল আয়োজন করতে চাইছেন। এরইমধ্যে তিনি বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সাকিব একটি সংবাদ মাধ্যমকে  বলেন, ‘২৭ জন প্রবাসী ফুটবলার জুনে ট্রায়ালের জন্য ঢাকায় আসবেন। আমরা ট্রায়ালটা করতে চাই বাফুফের অধীনে। ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারকে ট্রায়ালে রাখতে অনুরোধ করবো কারণ উনাকে ট্রাস্ট করা যায়।’ বিষয়টি স্বীকার করে বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, ‘দেখুন যারা বাংলাদেশ দলে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে তাদের ডাকা হয়েছে বা হচ্ছে। জুনের তৃতীয় সপ্তাহে তিন দিনের ট্রায়াল হবে। টেকনিক্যাল ডিপার্টমেন্ট নেবে। আমরা যদি এখান থেকে দুজন হলেও খেলোয়াড় পাই তাহলে ভালো। পাশাপাশি স্থানীয় খেলোয়াড় তৈরিতে আমাদের জোর দিতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *