
‘ঘি খাওয়ার জন্য আঙ্গুল বাঁকা করব, তবুও ঘি খেয়েই ছাড়ব’ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডাক্তার সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের এমন মন্তব্য ঘিরে নেটজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। দেশকে অস্থিতিশীল সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও হতাশ নেটিজেনরা। সামাজিক মাধ্যমে তার বক্তব্যকে নিয়ে ট্রল করতে গেছে দেখা গেছে অনেককে।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এই বক্তব্যটি দিয়েছেন গণভোটের দাবি প্রসঙ্গে। তিনি সরকারকে নির্বাচনের আগে গণভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে তারা ‘আঙুল বাঁকা’ করবেন। অনেকেই তার এই বক্তব্যকে হুমকি বা সহিংসতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
সমালোচকরা বলছেন, তার অবস্থান থেকে এই ধরনের কথাবার্তা খুবই অসভনীয়। এই ধরনের ভাষা সহিংসতা বা কঠোর আন্দোলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর। জনগণ এখন নির্বাচনমুখী, তারা কোনো সহিংসতা চাই না। জামায়াত রাজনৈতিকভাবে ভুল পথে পা বাড়িয়ে বিএনপির সাথে সংঘর্ষে জড়ালে একদিনও টিকতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর পল্টন মোড়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ববর্তী সমাবেশে সাবেক এমপি তাহের বলেছেন, ‘‘সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করব। ঘি আমাদের লাগবেই। আমরা রাজপথে এসেছি প্রয়োজনে আবার রক্ত দেব, প্রয়োজনে আবার জীবন দেব, আমাদের জুলাইয়ের অর্জনকে ব্যর্থ হতে দেব না।’’ তার মতে, গণভোট না করালে অন্তর্বর্তী সরকারের বিপদ বাড়বে।
অনেকেই তার এই বক্তব্যের মধ্যে একটি হুমকির সুর খুঁজে পাচ্ছেন এবং অশনী সংকেত দেখছেন যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাম্য নয় এবং অস্থিরতা বাড়াতে পারে বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকরা। দেশের বিদ্যমান নির্বাচন-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্যকে কোনভাবেই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না তারা।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমিরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নেটাগরিকরা বলছেন, এই মুহূর্তে কেউ সংঘাত চায় না। আর সংঘাত হলেই দেশের ক্ষতি হবে। এখন সবাই চায় নির্বাচন। জামায়াত সহিংসতার পথে হাঁটলে সবথেকে বেশি ক্ষতি হবে তাদের।
এরআগেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে নিজেকে বেশ সমালোচনার মুখে ফেলেন জামায়াতের শীর্ষ নেতা ডাক্তার সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। সম্প্রতি তিনি বলেছিলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সব মুসলিম দেশ থেকে যাকাত আনা হবে বাংলাদেশে, যা বিতর্কের জন্ম দেয়।
ডাক্তার তাহেরের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে ফেসবুকে আদিল রশিদ লিখেছেন, ৫ তারিখের পর থেকে তো সব করতেসেন একটু ক্ষমতার ঘি এর জন্য। আবার মুখে মুখে বলেন সংস্কার, এটা সেটা…।মূল কাহিনী হইলো ঐ ঘি…
একটু ক্ষমতার ঘি পেলেই ছেটেপুটে খাবেন।
ট্রল করে হামিদ বিন মীর লিখেছেন, আমাদের মুন্সিগঞ্জ জেলা শ্রীনগর থানার বর্তমান সরকারের দুই উপদেষ্টে আছেন, তাদের কাছে দাবি জানাই এই জামাত নেতাদের কে মুন্সিগঞ্জ শ্রীনগর থানা ভাগ্যকুল বাজারে অরজিনাল ঘি পাওয়া যায়। তাদেরকে সেখানে নিয়ে গিয়ে অরজিনাল ঘি খাইয়ে তাদের মনের আশা পূর্ণ করুন।
জহিরুল ইসলাম লিখেছেন, মোনাফেকরা মুখে বলে এক আর কাজ করে আরেক । গতকাল জামায়াতের আমির বলল, “ফেব্রুয়ারিতে সবাইকে নিয়ে নির্বাচন আদায় করবো ” আর আজকে জুলাই সনদ গণভোট নিয়ে নামছে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচালের জন্য। বিএনপি মাঠে নামলে তো একদিনও টিকতে পারবেন না।
গাজী শফিকুল ইসলাম লিখেছেন, একদিকে বলে নির্বাচন যেন ঠিক সময়ে হয়, অন্যদিকে সারা দিন রাত এই দাবী ঐ দাবী মানে কিভাবে যে নির্বাচন কে পিছানে যায় আর দলকে তারা সাজাবে গুছাবে এই ধান্দায়,,এই যেন মামার বাড়ীর আবদার অন্তবর্তকালীন সরকারকে পেয়ে। এর আগে এতো হুংকার কই ছিল মিয়া,।
