
সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হাফিজ উদ্দিন আহমদ। গতকাল রোববার তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে এদিকে
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মুরহুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করে ১১ টা ৪৭ মিনিটে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
পরিদর্শন-বইয়ের মন্তব্যে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টি হাফিজ উদ্দিন আহমদ লেখেন, ‘জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ ও অসীম দেশপ্রেমের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ লাভ করেছি। এই পবিত্র স্মৃতিসৌধ আমাদের জাতির গৌরব, আত্মত্যাগ, ঐক্য এবং দেশপ্রেমের চিরন্তন প্রতীক। আমি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।’ তিনি আরও লেখেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধানের আদর্শ এবং আমাদের মহান শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা সমুন্নত রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব, এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত দান করুন এবং প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ দান করুন।’ এর আগে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট স্মৃতিসৌধে এসে পৌঁছালে তিন বাহিনীর প্রধানসহ উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন।
এদিকে দুপুরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি রাজধানীর জিয়া উদ্যানে অবস্থিত তাদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত ও পরকালীন শান্তি কামনায় দোয়া করেন।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রেসিডেন্টের কার্যলয়ের জন বিভাগের সচিব খান মো. নূরুল আমীন, প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম ও প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
