জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রেফারি হয়ে গোল দিয়েছে

প্রচ্ছদ

মেহেদী হাসান পলাশঃ

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ- ২০২৫ প্রণয়ন করতে গিয়ে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন রেফারি হয়ে গোল দেয়ার এক মহাবিতর্কিত নজির স্থাপন করেছে। এ ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়েছিল মূলত একটি ফেসিলিটেটর বডি হিসেবে। যাদের মূল কাজ দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলো এবং বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণীর মতামতের ভিত্তিতে একটি জাতীয় রূপরেখা বাস্তবায়ন করা যা জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে আগামী জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সংবিধানে সংযুক্ত হবে। একই সাথে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জুলাইয়ের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে।

এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঐকমত্য কমিশন বেশ কয়েকটি সংস্কার কমিটির গঠন করে এবং এই সংস্কার কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সমূহের প্রতিনিধিবিদদের নিকট থেকে মতামত প্রস্তাব আহ্বান করে। তাদের প্রদত্ত প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রত্যেক কমিটি একটি খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রদান করে। এসকল প্রস্তাব জমা হওয়ার পরে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে বিভিন্ন সংস্কার কমিটির প্রধান ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। এ কমিশন প্রদত্ত প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে একটি ঐকমত্যে পৌঁছায়। এর মধ্যে যেগুলো নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়ন করা সম্ভব তার অনেকগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে এবং আরো কিছু বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।

তবে সবচেয়ে জটিল ছিল সংবিধান সংস্কার। এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩২টি রাজনৈতিক দলের সাথে অনেকগুলো বৈঠক করে। সেখানে খসড়া প্রস্তাবের বিভিন্ন ধারা উপধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো খসড়া প্রস্তাবের ধারার উপরে ঐক্যমতে পৌঁছানোর স্বার্থে নানা ব্যাখ্যা পরিবর্তন সংযোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমে বেশ কিছু প্রস্তাবে ঐকমত্য পোষণ করে। আবার অনেক প্রস্তাবে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল একমত হলেও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে দ্বিমত থাকে। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি কিছু প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। এসব দ্বিমত ও বিরোধিতা নোট অব ডিসেন্ট আকারে চূড়ান্ত ঐকমত্য প্রস্তাবে সন্নিবেশিত করা হয়। সেখানেও রাজনৈতিক দলগুলো এ মর্মে একটি ঐকমত্যে পৌঁছায় যে, তারা তাদের দ্বিমত ও নোট অব ডিসেন্টগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সংযুক্ত করবে এবং জনগণ যদি এটার ভিত্তিতে তাদেরকে নির্বাচিত করে তাহলে তারা সেগুলো বাস্তবায়ন করবে। এটা ছিল খুবই একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ৩২টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৪টি রাজনৈতিক দল চূড়ান্ত জুলাই সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে এক ধরনের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। ফলে এটি যখন সুন্দর একটি সমাপ্তির পথে তখনই ঐকমত্য কমিশন সংশ্লিষ্ট কোন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা ছাড়াই তাদের নিজস্ব এজেন্ডা অথবা অন্য কোনো মহল থেকে আরোপিত এজেন্ডা জুলাই সনদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে অনুপ্রবেশ করিয়ে নিজেরাই ঐক্যের মহীরুহে কুঠারাঘাত করলেন। এটি মূলত রেফারি হয়ে গোল দেয়ার নামান্তর। ঐকমত্য কমিশন রেফারি হয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকায় না থেকে কোনো একটি নির্দিষ্ট পক্ষে অথবা তৃতীয় পক্ষের হয়ে নিজেরাই মাঠে খেলতে নেমে গিয়েছেন বলে মনে হতে পারে।

ঐকমত্য কমিশন এ গোল দেয়া শুরু করেছিল জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিন থেকে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বর্তমান সংবিধানের ১৫০ ধারায় উল্লিখিত পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিলের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে ২৪টি রাজনৈতিক দল এ তিনটি তফসিল সংবিধান থেকে বাতিলের পক্ষে মত দেয়। গণফোরাম, সিপিবিসহ কিছু বাম রাজনৈতিক দল এতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে জানায়, তারা এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা এ তিনটি তফসিল রাখার বিষয়টি নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহারে সংযুক্ত করবে এবং নির্বাচনে জনগণ তাদের নির্বাচিত করলে তারা তফসিলগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করবে। এটি এভাবে একটি মীমাংসিত বিষয় হয়েছিল। কিন্তু জুলাই সনদ সাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রদত্ত চূড়ান্ত প্রস্তাবের ছাপা হওয়া বইয়ে দেখা যায়, ঐকমত্য কমিশন পঞ্চম ও ষষ্ঠ তফসিল বাদ দিলেও সপ্তম তফসিল সংযুক্ত করা হবে বলে চূড়ান্ত সনদে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং সেভাবেই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে ২৪টি রাজনৈতিক দল।

এ সপ্তম তফসিলে মূলত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে। উক্ত ঘোষণাপত্রে উল্লেখ রয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। এটি চরম একটি মিথ্যাচার ও বিতর্কিত ইতিহাস। এছাড়াও প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও অন্যান্য ডান এবং মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দাবি করে থাকে। ফলে বিএনপি ও তাদের পক্ষে এ প্রস্তাব মেনে নেয়া কিছুটা বিস্ময়কর। ঐ রাতেই আমি একটি টিভি চ্যানেলের টকশোতে বিএনপির অন্যতম আইনবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট জাকির হোসেনকে সরাসরি প্রশ্ন করি, তারা এই মত মেনে নিয়েছেন কিনা? তিনি সরাসরি এটি অস্বীকার করেন।

পরের দিন সকালে বিএনপি স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ঐক্যমত্য কমিশনের বিএনপি’র পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দানকারী সালাউদ্দিন আহমেদ আমাকে ফোন করে জানান, এ সপ্তম তফসিল রাখার ব্যাপারে ঐকমত্য কমিশন তাদের সাথে কোনো আলোচনাই করেনি। তারা সেখানে গিয়ে সপ্তম তফসিল সংযুক্ত হবে এমন পয়েন্ট দেখে যারপরনাই বিস্মিত হন। কিন্তু জুলাই সনদ স্বাক্ষরে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে, তাছাড়া অনেক রাজনৈতিক দলের এ সনদ স্বাক্ষরে গড়িমসি এবং সকালে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান মঞ্চে হামলা, ভাঙচুর প্রভৃতির ঘটনায় তারা আরো একবার এই জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনিশ্চিত হয়ে পড়–ক এমনটি চাননি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত সনদের স্বাক্ষর করলেও সপ্তম তফসিল আগামী সংবিধানে বাদ দেয়ার ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়া যায় তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন। আমি তাকে গণভোটে পাস হয়ে গেলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে জানালে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনার আহ্বান জানান। অর্থাৎ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের রেফারি হয়ে দেয়া প্রথম গোলটি ছিল সংবিধানের ১৫০ ধারায় সপ্তম তফসিল রেখে দেয়া।
আজকে ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রকাশ করার পর দেখা যায়, তারা আলোচনায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কোনোরূপ আলোচনা ছাড়া বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন চূড়ান্ত সনদে। এ ধরনের ম্যান্ডেট তাদের আছে কিনা সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কেননা খেলার পরিস্থিতি যাই হোক, রেফারির গোল দেয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।

আজকের এ আদেশে জাতীয় নির্বাচনে নিম্নকক্ষের ভোটের ভিত্তিতে পিআর সিস্টেমে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করেছে। জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ঐকমত্য কমিশনে এ প্রস্তাবের পক্ষে থাকলেও বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল সরাসরি বিরোধিতা করেছিল। তাদের প্রস্তাব ছিল নিম্নকক্ষের আসনের ভিত্তিতে পিআর সিস্টেমে উচ্চকক্ষ গঠন। বিষয়টি মীমাংসিত না হওয়ায় উভয়পক্ষ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নিজ নিজ দাবি অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচনে যেতে চেয়েছিলেন। এবং নির্বাচনে জয়লাভ করলে তারা উক্ত বিষয়ে তাদের নিজস্ব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবেন এমনটাই নির্ধারিত হয়েছিল। সেখানে আজকে ঐকমত্য কমিশন নিজে থেকে একটি নির্দিষ্ট দলের দাবি বাস্তবায়ন করে অপর দলকে বিপক্ষে ঠেলে দিয়ে নিজেদের নিরপেক্ষতা ক্ষুণœ করলেন।

অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নামে আরো একটি নতুন ধারণা এ আদেশে সংযুক্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এই বিষয়টি নিয়ে ঐক্যমত্য কমিশনে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন সালাউদ্দিন আহমেদ।

এদিকে চূড়ান্ত জুলাই সনদে যে সমস্ত নোট অব ডিসেন্ট রাখা হয়েছিল সেগুলো জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বাতিল করে দেয়া হয়েছে। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি এবং তাদের নোট অব ডিসেন্ট এভাবে ঐকমত্য কমিশন কারো সাথে আলোচনা ছাড়া বাতিল করতে পারে না। এই নোট অব ডিসেন্ট বাতিল করার মাধ্যমে আগামী দিনের রাজনীতিতে এবং নতুন সরকারকে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হবে। এছাড়াও এই নোট অব ডিসেন্টগুলো বাতিল করার ফলে সংসদে জুলাই সনদ অনুমোদন করে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্তি নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এবং সেটি বুঝতে পেরেই সরকার আরো একটি নতুন বিষয়ের সংযোজন করেছে এই আদেশে।

জুলাই সনদ ২৭০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে পাস করার একটি সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। সে সাথে ভয়ানক যে শর্তটি দেয়া হয়েছে তা হলো, যদি এই সনদ কোন কারনে ২৭০ দিনের মধ্যে অনুমোদন করা না যায় তাহলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে। এই ধারা সংযুক্তির মাধ্যমে ঐক্যমত্ত কমিশন আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জুলাই সনদের বাস্তবায়নের পথ বন্ধ করে দিল। কেননা কোন কোন পক্ষ যখন নিশ্চিতভাবেই জানবে, ২৭০ দিন পর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে তখন আর সেটি স্বাভাবিকভাবে বা সংসদে পাস হওয়া আর না হওয়ার কোন গুরুত্ব রাখে না। তারা আরোপিত জটিলতা সৃষ্টি করে ২৭০ দিন পার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হয়েছে বলে সংবিধান প্রণয়নের দাবী করবে।

এটি একটি ভয়ংকর বিষয়। এর মধ্যে দিয়ে নির্বাচিত সরকার শুরুতেই একটি চরম বিতর্কের মধ্যে পড়বে এবং একই সাথে প্রবল আন্দোলনের মুখোমুখি হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বেশ কিছু জনপ্রিয় ব্লগার দাবি করে থাকেন আগামী সরকার খুবই স্বল্প মেয়াদি হবে। এটি কি সেই দাবি বাস্তবায়নের নীল নকশার অংশ হিসেবে সংযুক্ত করা হলো কিনা ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই সমালোচনা করেছেন, ঐকমত্য কমিশন তাদের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য অহেতুক জটিলতা সৃষ্টি করেছেন। এই নতুন বিতর্কে সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার ফলে ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তাদের ধারণা। এবং এ লক্ষ্যেই কমিশন এই একতরফা কিছু কাজ করেছে।

এছাড়াও আরো বেশ কিছু বিষয় সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের সাথে আলোচনা ছাড়াই ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ আদেশে সংযুক্ত করেছে। এই কাজটি করার কোন এখতিয়ার তাদের নেই। প্রায় শতভাগ বিদেশি নাগরিক বিশেষ করে পশ্চিমাদেশের নাগরিকদের দ্বারা গঠিত বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও এজেন্ডা নিয়ে দেশের মানুষ প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন সময়। কেননা এ ধরনের বিদেশী ও প্রবাসী নাগরিকদের দ্বারা গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের প্রাইমারি আনুগত্য কোথায় তা নিয়ে তাদের অতীত বিভিন্ন কর্মকা- বিবেচনায় প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এত বিতর্কের মধ্যে দিয়েও শেষ পর্যন্ত তারা যে কাজটি করলেন তাতে তারা নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এবং রেফারির ভূমিকা থেকে বেরিয়ে এসে কোন একটি পক্ষে খেলতে নেমেছে বলে মনে হতে পারে। অথবা তারা নিজেরাই একটি পক্ষভুক্ত হয়ে তৃতীয় কোন পক্ষের হয়ে খেলা শুরু করেছে। এ ধরনের কোন মেন্ডেট তাদের ছিল না।

বাংলাদেশ নিয়ে নানামুখী পরিকল্পনায় ব্যস্ত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শক্তি এখানে শক্তিশালী সরকার প্রতিষ্ঠার পথে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে বিপ্লবের অব্যবহিত পর থেকেই। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এ ঐকমত্য কমিশন নিজে বয়ে যে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করলেন তা তাদের নিরপেক্ষতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দেবে। এই সংযুক্তি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে পুনরায় অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। ঐক্যমত্য কমিশন সে ধরনের কোন গোপন অভিলিপ্সা থেকে রেফারি হয়ে মাঠে গোল দিয়েছে কিনা সে প্রশ্ন আগামী দিনের জন্য তোলা রইলো।

সুত্রঃ ইনকিলাব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *