জাকসু নির্বাচন: ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো

রাজনীতি

খবর ৫২ নিউজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে পুরনো মতপার্থক্য আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। ঐকমত্যের অভাবে তারা একক প্যানেল ঘোষণা করতে পারেনি।

বামপন্থী ছাত্রনেতাদের সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসে বর্তমানে ছাত্র ইউনিয়নের দুটি অংশ সক্রিয় রয়েছে—একাংশ অদ্রি-অর্কের নেতৃত্বে এবং অন্যটি জাহিদ-তানজিমের নেতৃত্বে। এছাড়া ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র মৈত্রী, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন ক্যাম্পাসে সক্রিয়। এই সংগঠনগুলো জাকসু নির্বাচনে এক হয়ে প্যানেল দেওয়ার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চালালেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। প্রার্থী সংকটও একটি বড় কারণ। এখন এই সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্তত দুটি প্যানেল তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এবং কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচন করবেন।

জাকসুর তফসিল অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। জাকসু নির্বাচন কমিশন গতকাল প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যেই গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ও ইসলামী ছাত্রশিবির ভিন্ন নামে নির্বাচনী প্যানেল ঘোষণা করেছে।

বাম সংগঠনগুলোতে ঐক্য হয়নি

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ভাঙনের জের ধরে ২০২৩ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র ইউনিয়নে ভাঙন ধরে। ওই সময় অমর্ত্য রায় ও ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলির নেতৃত্বে (বর্তমানে অদ্রি-অর্ক) একটি অংশ এবং আলিফ মাহমুদ ও জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে (বর্তমানে জাহিদ-তানজিম) আরেকটি অংশের কমিটি গঠিত হয়। এরপর থেকে ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ (অদ্রি-অর্ক) ছাত্রফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী), বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট (শরণ), জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলনসহ কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় রয়েছে।

অন্যদিকে, ছাত্র ইউনিয়নের আরেকাংশ (জাহিদ-তানজিম) ছাত্র ফ্রন্ট (সোহাগী), জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট (মাহফুজ) ও কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলে আলাদাভাবে সক্রিয় রয়েছে।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর প্রায় ৩৫ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রশিবির। ওই রাতেই প্রতিবাদে বামপন্থী সংগঠনগুলো রাস্তায় নেমে আসে। এছাড়া, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ করে। তাই ছাত্রশিবিরের ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাকসু নির্বাচনে বামপন্থী সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়বে—এমন ধারণা ছিল ক্যাম্পাসের অনেকের। কিন্তু অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সংগঠনগুলো একমত হতে পারেনি।

এ বিষয়ে ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক সজিব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, “ছাত্রশিবির ইস্যুতে জাকসু নির্বাচনে বাম ঘরানার সব সংগঠন ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তবে কিছু ব্যক্তির ইগোর কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। তাই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) সঙ্গে ঐকমত্য না হওয়ায় ছাত্র ইউনিয়নের অদ্রি-অর্ক অংশ ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ নামে আলাদা প্যানেল দিতে পারে বলে জানা গেছে। এই প্যানেল থেকে ভিপি পদে অমর্ত্য রায় এবং জিএস পদে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি শরণ এহসান নির্বাচন করতে পারেন।

ছাত্র ইউনিয়ন অদ্রি-অর্কের নেতৃত্বাধীন অংশের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ (অর্ক) প্রথম আলোকে বলেন, “আমরা অতি দ্রুত প্যানেল ঘোষণা করব। আচরণবিধির বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, যার কারণে দেরি হচ্ছে। সমমনা ব্যক্তিদের নিয়েই আমাদের প্যানেল হবে।”

এদিকে, ছাত্র ইউনিয়নের আরেকাংশের (জাহিদ-তানজিম) নেতৃত্বে পৃথক প্যানেল হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। এই প্যানেলে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট (মাহফুজ), জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারসহ কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন নির্বাচন করতে পারে। তবে এই প্যানেল থেকে জাকসুর ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রার্থীর সংকট থাকার কারণে তারা এখনই প্যানেল ঘোষণা করতে পারছেন না বলে জানা গেছে। এই প্যানেলে ভিপি জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের মুখপাত্র মাহফুজ ইসলাম ও জিএস পদে ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম প্রার্থী হতে পারেন। ছাত্র ইউনিয়নের জাহিদ-তানজিম অংশের সঙ্গে দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া প্রার্থী হচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “দু-একের মধ্যে আমাদের প্যানেল ঘোষণা হবে। আমাদের প্যানেলে কিছু পদ ফাঁকা থাকতে পারে।”

খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ

জাকসু নির্বাচনের খসড়া প্রার্থী তালিকা গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে। জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, জাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে মোট ২৭৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *