চায়ের কাপে নির্বাচন, আলোচনায় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন

প্রচ্ছদ রাজনীতি

সকাল হোক কিংবা সন্ধ্যা। খুলনার অলিগলিতে পা রাখলেই চোখে পড়ে পরিচিত এক চিত্র। ধোঁয়া ওঠা চায়ের কেটলি। ছোট বেঞ্চ-টেবিল ঘিরে ভিড় আর সেই ভিড়ের মাঝখানে জমে উঠেছে আলোচনা। দক্ষিণের জনপদে শীতের আধিক্য বাড়ায় গায়ে একটু গরম কাপড় জড়িয়ে মানুষ ছুটে আসছে চায়ের স্টলগুলোতে। শীত উপেক্ষা করে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে চলেছে সমাজনীতি, রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি আর অর্থনীতির নানা প্রসঙ্গ। তবে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন একটাই, আগামী ফেব্রুয়ারির ত্রিয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

চায়ের স্টলগুলো যেন একেকটি ক্ষুদ্র সংসদ। এখানে নেই কোনো আনুষ্ঠানিকতা, নেই মাইক্রোফোন বা মঞ্চ। তবুও কথা থামে না। কে কোন প্রার্থী, কে কী বলেছে, কার জনপ্রিয়তা বাড়ছে, কার কমছে, এসব নিয়েই আলোচনা। কেউ বলছেন উন্নয়ন, কেউ প্রশ্ন তুলছেন অতীতের ভূমিকা নিয়ে। আবার কেউ কেউ হিসাব কষছেন ভোটের অঙ্ক, কে কতটা এগিয়ে, কে পিঁছিয়ে।

তফশিল ঘোষণা হয়েছে। বুধবার বিকাল পর্যন্ত খুলনা ২ আসনে ২জন, ৩ আসনে ৩জন, ৪ আসনে ৪, ৫ আসনে ২ জন এবং খুলনা ৬ আসনে ২জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।  সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আলোচনার উত্তাপ আরও বেড়েছে। ব্যস্ততা বেড়েছে রাজনৈতিক কার্যালয়গুলোতে। পোস্টার, ব্যানার আর স্লোগানে ধীরে ধীরে রঙিন হয়ে উঠছে শহরের দেয়াল। কিন্তু এত আয়োজনের মাঝেও সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের অদৃশ্য শঙ্কা রয়ে গেছে।

এরই মধ্যে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে তারেক রহমান দেশে আসছেন। এমন খবর ও সম্ভাবনা। চায়ের স্টল থেকে রেস্টুরেন্ট। সব জায়গাতেই এই প্রসঙ্গ ঘুরে ফিরে আসছে। অনেকেই মনে করছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে। কেউ বলছেন, এতে নির্বাচনী মাঠ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, এই প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক পরিস্থিতির আমুল পরির্বতন হবে। আবারও কেউ বলছেন, আদৌ পরিবেশ কতটা অনুকূল হবে।

চায়ের দোকানে বসে কথা বলতে বলতে হঠাৎ কেউ বলে ওঠেন, সব ঠিক আছে, কিন্তু যথা সময়ে নির্বাচন হবে তো? এই একটি প্রশ্নেই যেন থেমে যায় কিছুক্ষণের জন্য সব আলোচনা। তারপর আবার শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। কেউ আশাবাদী, কেউ সন্দিহান। কেউ বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে, নির্বাচন হবেই। আবার কেউ বলছেন, শেষ মুহূর্তে কী হয় বলা যায় না।

খুলনার শুধু চায়ের স্টলেই নয়, রেস্টুরেন্টগুলোতেও একই চিত্র। অনেক রেস্টুরেন্টের দেয়ালে ঝুলছে লেখা “রাজনৈতিক আলোচনা নিষেধ।” কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। খাবারের অর্ডারের ফাঁকেই ঢুকে পড়ে রাজনীতির প্রসঙ্গ। নিমিষেই টেবিলজুড়ে শুরু হয় বিশ্লেষণ। নিষেধাজ্ঞার লেখা যেন সেখানে নিছকই এক আনুষ্ঠানিকতা।

এই আলোচনা শুধু কৌতূহল থেকে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের প্রত্যাশা, আশঙ্কা আর ভবিষ্যৎ ভাবনা। নির্বাচন মানেই পরিবর্তনের আশা, আবার অনিশ্চয়তার ভয়ও। সাধারণ মানুষ জানতে চায়, ভোট দিতে পারবে তো নির্বিঘ্নে? তাদের মতামত প্রতিফলিত হবে তো ফলাফলে?

খুলনার রাজপথ, অলিগলি, চায়ের স্টল আর রেস্টুরেন্ট সবখানেই তাই এখন একই সুর। চায়ের কাপে চুমুকের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে ফিরে আসছে একটাই প্রশ্ন। তফশিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, সব প্রস্তুতি চললেও শেষ কথা যেন এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই আটকে আছে।

সব আলোচনার পরিণতি গিয়ে ঠেকছে এক জায়গায়। যথা সময়ে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে তো? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই যেন প্রতিদিন নতুন করে জমে উঠছে খুলনার চায়ের স্টলগুলোর আলোচনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *