খবর৫২.কম ১৬ অক্টোবর, ২০২৫
চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড)-এ অবস্থিত দুটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলেও আট ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও রাত ১০টা পর্যন্ত আগুন সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
কোথায় আগুন:
অগ্নিকাণ্ডটি ঘটেছে সিইপিজেডের অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড এবং জিহং মেডিকেল কোম্পানির গুদামে।
অগ্নিনির্বাপণ তৎপরতা:
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ২৩টি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে সহায়তা করছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যরা। আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে ঘটনাস্থলে আরও ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। এছাড়া, একটি রোবট ইউনিটের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আগুন নেভাতে রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে লাগানো পাইপ দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ছিটানো হচ্ছে।”
অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা ও প্রতিবন্ধকতা:
আগুন লাগা ভবনের আট তলার ছাদ ধসে পড়েছে এবং ভেতরে থেমে থেমে বিস্ফোরণ ঘটছে। এতে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রচণ্ড তাপের কারণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনের কাছাকাছি যেতে পারছেন না, দূর থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আগুনের তাপদাহে পাশের একটি তিনতলা ভবনেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানার ভবন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ায় সেগুলোতে পানি ছিটিয়ে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, “বন্দর, আগ্রাবাদ, ইপিজেড, কালুরঘাট ও চন্দনপুরা স্টেশনের ২৩টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে। আগুন লাগা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তোয়ালে ও হাসপাতালের যন্ত্রপাতি তৈরি করা হতো। প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আপাতত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।”
সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সোবহান জানান, “আগুন লেগেছে ভবনের সপ্তম তলায়, যা মূলত গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। প্রায় ৭০০ শ্রমিক ভবনে কাজ করতেন, তবে সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
বর্তমানে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
