
গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় ও ইসরাইলের সহায়তা প্রবেশে বাধাদানের প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে তেলআভিভকে। লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনির ওপর চাপিয়ে দেওয়া দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঢুকতে না দেওয়ায়, ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা করেছে—তারা ইসরাইলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য বিষয়ে চলমান আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখছে।
বুধবার (২১ মে) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে এএফপি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে এই বার্তা তুলে ধরেন। ল্যামি বলেন, “গাজায় যা ঘটছে তা ভয়াবহ ও মর্মান্তিক।” তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবরোধ এখনই তুলে নিতে হবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, এই মানবিক সহায়তা বন্ধ থাকলে যুক্তরাজ্য আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। ইসরাইলের অবরোধকে তিনি ‘নির্মম’ বলে আখ্যা দেন এবং অবিলম্বে মানবিক করিডোর খুলে দেওয়ার দাবি জানান।
এই পদক্ষেপ শুধু একটি রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং কূটনৈতিক নীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। প্রতি বছর বিলিয়ন পাউন্ডের পণ্য ও সেবা আদান-প্রদান করা যুক্তরাজ্য-ইসরাইল অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর এই সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রভাব ফেলবে। গাজার নাগরিকদের খাদ্য, পানি ও ওষুধের অভাব, এবং তা ইচ্ছাকৃতভাবে রোধ করা হচ্ছে—এমন বাস্তবতায় জাতিসংঘসহ বহু আন্তর্জাতিক সংগঠন ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক চাপের অংশ হিসেবেই দেখা যাচ্ছে, যা ইসরাইলকে মানবিক দায়িত্ব পালনে আরও জবাবদিহির মুখে ফেলবে।
