গাজায় ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত শরণার্থীদের তাঁবু, বাস্তুচ্যুত হতে পারেন লাখ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইলের গণহত্যার পর এবার নতুন বিপর্যয়ের মুখে গাজার মানুষ। ঝড় বায়রনের আগমনের সাথে সাথে, আজ থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা সহ ফিলিস্তিন জুড়ে আকস্মিক বন্যা, তীব্র বাতাস এবং শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ফিলিস্তিনি আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে।

কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কারণ তাদের আশ্রয়স্থল দুর্বল এবং জনাকীর্ণ। গাজা শহরের মেয়র বলেছেন যে বেশ কয়েকটি রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে হাজার হাজার শরণার্থী তাঁবু প্লাবিত হয়েছে, যার মধ্যে কিছু সম্পূর্ণরূপে ডুবে গেছে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ভোরে বায়রন নামক ঝড়ের আগমনী বৃষ্টিতে কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল ভিডিওবার্তায় এই আশু মানবিক দুর্যোগ নিয়ে সতর্ক করেছেন। 

গাজার বেশিরভাগ পৌর নিষ্কাশন ব্যবস্থা ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, বন্যার পানি আবর্জনার সঙ্গে মিশে কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। আবর্জনা সংগ্রহও প্রায় বন্ধ থাকায় চিকিৎসা বর্জ্য,প্লাস্টিক,পশুর মৃতদেহ ও ধ্বংসাবশেষ আশ্রয়স্থলে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাসিন্দাদের ব্যবহৃত ভূগর্ভস্থ পানিও দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং পানির নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় বন্যার পানি অনেক এলাকায় জমে থাকতে পারে। বাসাল উল্লেখ করেছেন, গাজার ২৪ লক্ষ মানুষের চাহিদা পূরণে ত্রাণ এখনও যথেষ্ট নয়। প্রায় ৩,০০,০০০ তাঁবু ও প্রিফ্যাব্রিকেটেড ইউনিটের প্রয়োজন, যা মৌলিক আশ্রয় সরবরাহ করতে সহায়ক হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *