
বিদেশি সাহায্য সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ইসরায়েলের নতুন আইন গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে গুরুতর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এক যৌথ চিঠিতে ১০০-র বেশি আন্তর্জাতিক এনজিও জানায়, নতুন বিধিনিষেধের কারণে তাদের ত্রাণ সরবরাহের আবেদন নিয়মিতভাবে বাতিল করা হচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, শুধু জুলাই মাসেই অন্তত ৬০টি ত্রাণ সরবরাহের আবেদন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বাতিল করেছে। ওক্সফ্যাম, ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) ও কেয়ার-এর মতো সংস্থাগুলো এতে স্বাক্ষর করেছে। সংস্থাগুলোর দাবি, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা “ত্রাণ সরবরাহের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয়”।
এ বছরের মার্চে ইসরায়েলি সরকার ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে কাজ করা বিদেশি এনজিওগুলোর জন্য নতুন নীতিমালা অনুমোদন করে। এতে এনজিও নিবন্ধন প্রক্রিয়া কঠোর করার পাশাপাশি এমন বিধান রাখা হয়, যা দিয়ে “ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক চরিত্র অস্বীকার” বা “দেশের বিরুদ্ধে অবমূল্যায়ন প্রচার” করলে নিবন্ধন বাতিল বা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যাবে।
ইসরায়েলের প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি এএফপিকে বলেন, “দুঃখজনকভাবে অনেক সাহায্য সংস্থা শত্রুতামূলক ও কখনো সহিংস কার্যকলাপের আড়াল হিসেবে কাজ করে।” তবে তিনি দাবি করেন, যেসব সংস্থার সঙ্গে সহিংসতা বা বয়কট আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই, তারা অনুমতি পাবে।
কিন্তু সাহায্য সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এ নীতিমালার কারণে গাজার সাধারণ মানুষ খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কেয়ার-এর ফিলিস্তিনি অঞ্চলের পরিচালক জোলিয়েন ফেল্ডওইক বলেন, “আমাদের কাজ জীবন বাঁচানো। কিন্তু নিবন্ধন জটিলতার কারণে আমরা গাজায় একটিও ত্রাণ পাঠাতে পারিনি মার্চের পূর্ণ অবরোধের পর থেকে, যদিও মে মাসে অবরোধ কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল।”
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে হামাস গাজায় প্রবেশ করা ত্রাণ চুরি করে নেয়। মে মাস থেকে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত “গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন”–এর মাধ্যমে খাদ্য বিতরণ পরিচালনা করছে। তবে গাজার সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, প্রতিদিন হাজারো মানুষ ত্রাণকেন্দ্রে ভিড় করায় সেখানে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে এবং মাঝে মাঝে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
