কমপক্ষে ২০ জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের নিন্দা

গাজার অধিবাসীদের গাজা ছেড়ে চলে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন কিছু মন্ত্রী । যদি তারা না যান, তাহলে গাজায় ‘নরকের দরজা’ খুলে দেবেন। এর আগে গত রোববার ইসরাইল সরকার জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রিসহ সব পণ্য গাজায় সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। জোর যার মুল্লুক তার- পরিস্থিতি সর্বশেষ এমন পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে। এর কড়া নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘর মানবাধিকার বিষয়ক কমপক্ষে ২০ জন নিরপেক্ষা অধিকারকর্মী, বিশেষজ্ঞ। ওদিকে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে, ১৯৯৭ সালের পর ইসরাইলি বংশোদ্ভূত মার্কিন জিম্মিদের মুক্তি ও গাজা যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনা হচেছ হামাসের সঙ্গে। এর আগে হামাসকে গাজায় সব ইসরাইলি জিম্মি মুক্তি দেয়ার শেষ সতর্কতা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে ইসরাইল সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের ওই বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া এবং গাজায় নরকের দরজা খুলে দেয়ার যে হুমকি দিয়েছে ইসরাইল, তা হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। এতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হয়। শান্তির প্রত্যাশা বিপন্ন হয়। বৃহস্পতিবার ওই বিশেষজ্ঞরা একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। এর আগে ইরাইলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিপরিষদ থেকে ঘোষণা দেয়া হয় যে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে যেতে প্রস্তুত। অনেক মন্ত্রী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন যে, যুদ্ধবিধ্বসত গাজাকে নরকের দরজায় পরিণত করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বিবৃতিতে বলেন, তাদের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন। একটি দখলদার বাহিনী হিসেবে ইসরাইলের আইনগত কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। নিশ্চিত করতে হবে পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা, মেডিকেল সরঞ্জাম সরবরাহ ও সব রকম ত্রাণের প্রবাহ। বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, বিকলাঙ্গদের সাপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ সব সেবাখাতকে অবরুদ্ধ করে মানবাধিকার সহায়তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরাইল। তাদের এসব কর্মকান্ড আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার বিষয়ক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন। রোম স্ট্যাটু-এর অধীনে মানবতার বিরুদ্ধে একে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এসব নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মধ্যে আছেন ফ্রাসেস্কা আলবানিজ। তিনি দখলীকৃত ফিলিস্তিন ভূখন্ডের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিউর। মাইকেল ফাখরি। তিনি খাদ্য অধিকার বিষয়ক স্পেশাল র্যাপোর্টিউর। তারা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি জাতিসংঘের কাছে তুলে ধরেন। নিরপেক্ষ এসব বিশেষজ্ঞ কাজ করেন স্বেচ্ছাভিত্তিতে। তারা জাতিসংঘের সদস্য নন এবং তাদের কাজের জন্য কোনো বেতনও পান না
