
বোলাররা লক্ষ্যটা রেখেছিলেন নাগালেই। সেখানে একাই পাঁচ-পাঁচটি ক্যাচ নিয়ে তানজিদ হাসান গড়েন বিশ্ব রেকর্ড। পরে ব্যাট হাতেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন এই ওপেনার। আয়ারল্যান্ডকে অনায়াসেই হারিয়ে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ।
সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মঙ্গলবার ৮ উইকেটে জিতেছে টাইগাররা। ১১৮ রানের লক্ষ্য ৩৮ বল হাতে রেখে পূরণ করে লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বাধীন দলটি।
৫০ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭৩ রানের জুটিতে জয় নিয়ে ফেরার সময় ৩৬ বলে ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন তানজিদ, ২৬ বলে ৩৩ রানে পারভেজ হোসেন ইমন। বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয়সূচক রান করেন ইমন।
হার দিয়ে শুরুর পর টানা দুই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল স্বাগতিকরা।
ম্যাচে তানজিদ একাই ক্যাচ নিয়েছেন ৫টি, যা আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে কোনো ফিল্ডারের যৌথভাবে সর্বোচ্চ ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ড। তবে পূর্ণ সদস্যের দেশগুলোর মধ্যে এক ম্যাচে ৫টি ক্যাচ ধরার প্রথম ঘটনা এটিই।
তবে জয়ের আসল নায়ক রিশাদ হোসেন। ৪ ওভারে ২১ রান খরচায় ৩টি শিকার ধরেন লেগ স্পিনার রিশাদ। ভেঙে দেন আইরিশদের মিডল অর্ডার।
বাঁহাতি পেসে মুস্তাফিজ ৩ ওভারে স্রেফ ১১ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। ২১ রানে ২টি নেন শরিফুল ইসলাম। একটি করে শিকার ধরেন মেহেদি ও মোহাম্মাদ সাইফউদ্দিন।
১ বল বাকি থাকতে ১১৭ রানে গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড।
রান তাড়ায় ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। তানজিদের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামেন সাইফ হাসান। ১৪ বলে এক ছক্কা ও দুই চারে ১৯ রান করা সাইফের বিদায়েই ভাঙে ২৪ বল স্থায়ী ৩৮ রানের ওপেনিং জুটি।
পাওয়ার প্লের মাঝেই সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে ৬ বলে ৭ রান করে বিদায় নেন লিটন। এরপর আর বিপদ হতে দেননি তানজিদ ও ওপেনিং ছেড়ে এদিন চারে নামা ইমন।
৪৮ থেকে দুর্দান্ত ছক্কায় ক্যারিয়ারের ১১তম ফিফটি পূর্ণ করেন তানজিদ। তার ৩৬ বলে অপরাজিত ৫৫ রানের ইনিংসে ছক্কা মোট তিনটি, চারটি চার। ২৬ বলে অপরাজিত ৩৩ রানের ইনিংসের পথে তিনটি ছক্কা ও একটি চার হাঁকান ইমন।
এর আগে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪ ওভারে ৩৮ রান তুলে আয়ারল্যান্ড। স্পিনার মাহেদি হাসানের করা ইনিংসের প্রথম ওভারে ৩টি চারে ১৩ রান নেন আইরিশ ওপেনার ও অধিনায়ক পল স্টার্লিং।
চতুর্থ ওভারে আয়ারল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গেন শরিফুল। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১০ বলে ১৭ রান করে বোল্ড হন টিম টেক্টর।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় উইকেট এনে দেন মুস্তাফিজ। ৫ রান করে ফিজের বলে বোল্ড হন হ্যারি টেক্টর।
ষষ্ঠ ওভারে দ্বিতীয়বারের মত আক্রমণে এসেই উইকেট তুলে নেন মেহেদি। ওভারের প্রথম ডেলিভারিতে উইকেটরক্ষক লরকান টাকারকে ১ রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি।
মুস্তাফিজ ও মাহেদির আঘাতের পর ম্যাচে প্রথম উইকেটের দেখা পান আরেক স্পিনার রিশাদ হোসেন। দারুণ এক ডেলিভারিতে ১৬ বলে ৯ রান করা কার্টিস ক্যাম্ফারকে বোল্ড করেন রিশাদ।
সতীর্থদের যাওয়া-আসার মাঝে একপ্রান্ত আগলে আয়ারল্যান্ডের রানের চাকা সচল রেখেছিলেন ব্যক্তিগত ১৫ রানে জীবন পাওয়া স্টার্লিং। ১২তম ওভারে দলীয় ৭৩ রানে স্ট্রার্লিংকে থামান রিশাদ। সাইফকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৭ বলে ৩৮ রান করা স্ট্রার্লিং।
দলীয় স্কোর ১শ হবার আগেই আয়ারল্যান্ডের ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটান রিশাদ। গ্যারেথ ডেলানিকে ১০ রানে থামিয়ে তৃতীয় উইকেটের দেখা পান তিনি। ১৬তম ওভারে ৯৩ রানে ৬ উইকেট হারায় আইরিশরা।
১৮তম ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজ। এতে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠেন ফিজ।
ইনিংসের শেষ দুই ওভারে রিশাদ ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ১টি করে উইকেট নিলে, ১৯.৫ ওভারে ১১৭ রানে অলআউট হয় আয়ারল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আয়ারল্যান্ড: ১৯.৫ ওভারে ১১৭ (স্টার্লিং ৩৮, টিম টেক্টর ১৭, হ্যারি টেক্টর ৫, টাকার ১, ক্যাম্ফার ৯, ডকরেল ১৯, ডেল্যানি ১০, অ্যাডায়ার ৮, হামফ্রিজ ১, ইয়াং ২*, হোয়াইট ৫; শেখ মেহেদি ৪-০-২৪-১, শরিফুল ৩-০-২১-২, সাইফ উদ্দিন ৩.৫-০-৩১-১, মুস্তাফিজ ৩-০-১১-৩, রিশাদ ৪-০-২১-৩, সাইফ হাসান ২-০-৮-০)।
বাংলাদেশ: ১৩.৪ ওভারে ১১৯/২ (তানজিদ ৫৫*, সাইফ ১৯, লিটন ৭, পারভেজ ৩৩*; হামফ্রিজ ২-০-১৫-০, অ্যাডায়ার ১-০-১১-০, ইয়াং ২.৪-০-৩০-১, ডেল্যানি ২-০-২৫-০, টেক্টর ৩-০-১৭-১, হোয়াইট ৩-০-২১-১)।
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: রিশাদ হোসেন।
ম্যান অব দা সিরিজ: মেহেদি হাসান।
