কিছু সংবাদ শুধুমাত্র ভিউ বাড়ানোর জন্য প্রকাশিত হয়, যা প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে। নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য সঠিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সায়েদা রিজওয়ানা হাসান।
রবিবার (২৪ মার্চ) বিকেলে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এ আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারের শিরোনাম ছিল “ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের যুগে গণমাধ্যম: চ্যালেঞ্জ, দায়িত্ব ও উন্নয়নের পথ।”
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, “গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব হলো সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।”
তিনি আরও বলেন, “গণমাধ্যমের মালিকানা কার হাতে রয়েছে, সেটি বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ২০-২৫ বছরে গণমাধ্যমের কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। সত্য সংবাদ প্রচারের জন্য এই বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে।”
এর আগে, মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশের একটি তালিকা চেয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, “এই অনুযায়ী, আগামীকাল (সোমবার) প্রধান উপদেষ্টার কাছে কিছু সুপারিশ প্রদান করা হবে এবং তিনি সেগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।”
কামাল আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য বা প্রোপাগান্ডা নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে এগুলো মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ সীমিত। দীর্ঘদিন ধরে আমি গণমাধ্যমে ফ্যাক্ট-চেকিং ডেস্ক চালুর কথা বলছি। তবে গণমাধ্যমে এ নিয়ে একটি আশঙ্কা কাজ করে—অনেকেই মনে করেন, তথ্য যাচাই করলে সরকার বা ক্ষমতাসীনদের অসন্তুষ্ট করা হতে পারে।”
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপকমিশনার মোহাম্মদ আজাজ বলেন, “আমরা পাঁচটি এলাকায় কাজ করছি। যদি আমরা এই কমিউনিটিগুলোতে উন্নতি ঘটাতে এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে পারি, তবে ভুল তথ্য প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে, বিশ্বস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ টিটুমীর এবং বাংলাদেশে অক্সফামের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশীষ দামলে।
সেমিনারে উপস্থিত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ প্রচারে নৈতিকতা এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারা সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
