উড়ন্ত শুরু শ্রীলঙ্কার, হতাশা নিয়েই সেশন শেষ বাংলাদেশের

খেলা

দুটো উইকেট হাতে রেখে সেশনটা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলটা খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। সফরকারীরা অলআউট হয়েছে ২৪৭ রান তুলে। এরপর জবাব দিতে নেমে শ্রীলংকা ওয়ানডে মেজাজে খেলতে শুরু করেছিল। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে সে রানের ধারায় লাগাম টানতে পেরেছে বাংলাদেশ, তবে উইকেটের দেখা পায়নি। যার ফলে দলটা সেশনটা শেষ করল হতাশা নিয়েই।

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের উইকেট যে ব্যাটারদের জন্য বেশ উদার, তার প্রমাণ মিলেছে লঙ্কানদের ব্যাটিংয়ে। শুরুর বলেই চার মেরে বসেন পাথুম নিসাঙ্কা। এরপর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। বোলিংয়ের শুরুটা হয়েছিল বেশ বাজে। লাগামছাড়া বোলিংয়ে লঙ্কানদের ওপর শুরুর দশ ওভারে চাপই সৃষ্টি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২ বছর পর দলে ফেরা এবাদত ছয়ের কাছাকাছি রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি, নাহিদ রানা তো দুই ওভারেই দিয়েছেন ২০ রান। ফলে ১০ ওভারেই ৫৫ রান তুলে ফেলে লঙ্কানরা।

এরপর স্পিনাররা চেপে ধরেন স্বাগতিকদের। তাইজুল ইসলামের শুরুটা ভালো হয়নি। তবে ধীরে ধীরে তিনি ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিংয়ের শুরুটা করেছেন বেশ ভালো। যার ফলে শেষ ১১ ওভারে রান উঠেছে ২৮। কিছুটা হলেও রানের গতিটা কমানো গেছে লঙ্কান দুই ওপেনারের। 

তবে বারদুয়েক খুব কাছাকাছি গেলেও উইকেটের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। যার ফলে সেশনটা শ্রীলঙ্কারই হলো শেষমেশ। বাংলাদেশ বিরতিতে গেল হতাশা নিয়ে। 

এর আগে দিনের শুরুতে বাংলাদেশের আশা ছিল নিদেনপক্ষে ২৭০-২৮০ রানের। ওপেনার সাদমান ইসলাম আগের দিন শেষে এমনটাই বলে গিয়েছিলেন। এই রান তুলতে পারলে কলম্বোর এই উইকেটে বেশ লড়াকু পুঁজিই হতে পারত। তবে তা করতে হলে আগে ২৫০ তো তুলতে হতো, সেটা হয়নি দলের। তার তিন রান আগেই অলআউট হলো সফরকারীরা। 

আগের দিনের বৃষ্টিতে খেলা হয়েছে ১৯ ওভার কম। সে ক্ষতি কিছুটা পুশিয়ে নিতে আজ খেলা শুরু হয় ১৫ মিনিট আগে। দিনের শুরুতে বাংলাদেশকে দারুণ আশাই দেখিয়েছিলেন তাইজুল। তৃতীয় বলে মেরেছিলেন দৃষ্টিনন্দন এক চার। এরপর থেকে রান উঠেছে আর মোটে ৪টি।

এরপরই এবাদত বিদায় নিলেন। আসিথা ফার্নান্দোর ডেলিভারিটা নিচু হয়ে লাগে তার প্যাডে। তাতে রীতিমতো উদযাপনই শুরু করে দেন লঙ্কান বোলার। শেষে আপিল করতে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার।

তিনটি রিভিউ ছিল বাংলাদেশের। যা কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন এবাদত হোসেন। রিভিউতে দেখা যায় বল পড়েছে অফ স্টাম্পের বাইরে, ইমপ্যাক্ট হয়েছে স্টাম্পের লাইনে, এরপর তা গেছে স্টাম্পে। তিনটি লাল সিগন্যাল মানে আউট, রিভিউটাও হারায় বাংলাদেশ। 

২২৯ রানে বাংলাদেশ খুইয়ে বসে তাদের নবম উইকেট। এরপর রান তোলার দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নেন তাইজুল। দারুণ তিনটি চার মেরে বাংলাদেশকে আশা দেখিয়েছিলেন তিনি। 

নতুন বল নেওয়ার সময় চলে আসছিল একটু একটু করে। ৮০তম ওভারে তাই একটু তাড়াহুড়ো করেই ২৫০ ছুঁতে চেয়েছিলেন তাইজুল। সোনাল দিনুশার ডেলিভারিটাকে তুলে মারতে চেয়েছিলেন লং অনের ওপর দিয়ে। তবে তা হয়নি। অনেকটা সামনে দৌড়ে এসে ক্যাচটা নেন সোনাল দিনুশা। তাইজুল তাই আউট হন ৩৩ রানে। বাংলাদেশ ২৪৭ রানে শেষ করে তাদের ইনিংস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *