
চীনের সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের জোরপূর্বক শ্রমদানে বাধ্য করার অভিযোগ বেশ পুরোনো। এবার জানা গেল, ইউরোপের পোশাক বাজার এখনও চলছে উইঘুর মুসলমানদের জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত তুলায়।
সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি টাইমসের প্রতিবেদনের বরাতে উইঘুর নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে অন্তত ১৫টি পোশাক কারখানা শত শত টন তুলা আমদানি করেছে দুটি চীনা কোম্পানি, এসকুয়েল গ্রুপ এবং জিয়াংসু লিয়ানফা টেক্সটাইলস থেকে। এই দুই প্রতিষ্ঠান চীনের কুখ্যাত জোরপূর্বক শ্রম প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা অভিযোগ তুলেছে।
এদের সরবরাহেই তৈরি হচ্ছে ইউরোপের বড় বড় ব্র্যান্ডের পোশাক।
ইউনিভার্সিটি টাইমসের মতে, এসকুয়েল গ্রুপ এবং জিয়াংসু লিয়ানফা পূর্ব তুর্কিস্তানে (চীনের জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল) ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করে, যা বিশ্বের প্রায় এক তৃতীয়াংশ তুলা উৎপাদন করে।
চীনের জিনজিয়াং অঞ্চল বিশ্বে মোট তুলা উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহের কেন্দ্র হলেও, এখানেই চলেছে উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীনা সরকারের নৃশংস নিপীড়ন।
জাতিসংঘের ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে চীনা কর্তৃপক্ষ এই অঞ্চলে নিরীহ উইঘুর মুসলিমদের ওপর নানা ধরনের দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন, জোরপূর্বক গর্ভপাত ও অনৈচ্ছিক বন্ধ্যাকরণ।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরের এক ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে উইঘুর শ্রমিকরা এসকুয়েল এবং জিয়াংসু লিয়ানফার জন্য কাজ করছেন।
গত বছর উইঘুরদের জোরপূর্বক শ্রমদানে বাধ্য করার অভিযোগ তুলে ২৬টি চীনা তুলা রপ্তানিকারী কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
