
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবন এখন কার্যত অচল। বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে টানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে ডিএসসিসির কর্মচারীরা ও তার সমর্থকেরা। ‘ইশরাক-ইশরাক’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো নগর ভবন। আন্দোলনের ফলে অফিস ভবনের ফটকে তালা ঝুলছে, বন্ধ রয়েছে নাগরিকদের সকল সেবা।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ডিএসসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও, নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল চেয়ে আদালতে যান বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন। ২০২৪ সালের মার্চে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল তার পক্ষে রায় দেয়। এরপর ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন তাকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। কিন্তু আইনি জটিলতার অজুহাতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এখনও পর্যন্ত তার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করেনি, ফলে আন্দোলনে নেমেছে কর্মচারী ইউনিয়ন ও ইশরাকের সমর্থকেরা।
সোমবার (২ জুন) সকাল থেকে নগর ভবনের মূল ফটকে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ‘শপথ চাই, ইশরাক ভাইয়ের শপথ চাই’, ‘মেয়র নিয়ে টালবাহানা চলবে না’, ‘চলছে লড়াই চলবে’, ‘নগরপিতা ইশরাক ভাই’—এমন স্লোগানে মুখর নগর ভবন। তারা শুধু মূল গেট নয়, ডিএসসিসির সব বিভাগের অফিস গেটেও তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন। ফলে সেবাপ্রার্থীরা এসে ফিরে যাচ্ছেন।
ইশরাক সমর্থকেরা বলছেন, “জনগণের রায়ে নির্বাচিত মেয়রকে শপথ নিতে না দিয়ে গণরায়কে অস্বীকার করা হচ্ছে।” আন্দোলনের ফলে ১৫ মে থেকে নগর ভবন থেকে নাগরিক সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে। গত ১৪ মে ইশরাকের শপথ ঠেকাতে দায়ের হওয়া রিট আদালতে খারিজ হলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এখনও নিরব। এ অবস্থায় ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে একবার আন্দোলন স্থগিত করা হলেও পুনরায় তা শুরু হয়।
ইশরাক হোসেন সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে। ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে তাকে মেয়র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু ১৪ মে তার শপথ ঠেকাতে একটি রিট করা হয়, যা পরে হাইকোর্ট খারিজ করে। এরপরও শপথ অনুষ্ঠান না হওয়ায় আবারও বিক্ষোভে নামে তার সমর্থকেরা। এ আন্দোলনে ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন’ ও ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে যুক্ত হয়েছেন সাধারণ নাগরিকেরাও।
আইনি বাধা দূর হলেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতায় ইশরাক হোসেন এখনও মেয়রের চেয়ারে বসতে পারেননি। তার সমর্থকেরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং নগর ভবনের সব সেবা বন্ধ থাকবে। শহরের সাধারণ নাগরিকরা দ্রুত এই সংকটের সমাধান চান, যাতে জনসেবা আবারও সচল হয় এবং নাগরিক ভোগান্তি কমে।
