ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনা: ওমানে বৈঠক, আগামী সপ্তাহে আবারও দেখা করার সিদ্ধান্ত
খবর৫২ ডটকম
দীর্ঘদিন পর পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে সরাসরি আলোচনায় বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (১২ এপ্রিল) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে প্রাথমিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে দুই পক্ষ আগামী শনিবার আবারও বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে।
হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে এ আলোচনাকে “খুবই ইতিবাচক ও গঠনমূলক” বলে উল্লেখ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছেন, “আলোচনা ঠিকঠাক চলছে, তবে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়।”
ওমানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আনা এসক্রোগিমা বলেন, “স্টিভ উইটকফের এই সরাসরি আলোচনা উভয় পক্ষের জন্য সহায়ক হয়েছে। আমরা পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে এগোচ্ছি।”
যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত ও ইরানের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি “সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ” করতে হবে। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “ইরানকে অবশ্যই তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, নইলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে।”
তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমান বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদল ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে বলেনি। বরং, তাদের বিদ্যমান পারমাণবিক উপকরণ যেন অস্ত্রে রূপান্তরিত না হয়, সেদিকে জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ইরানের আঞ্চলিক নীতি, যেমন হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সমর্থন নিয়ে আলোচনায় তেমন কোনো প্রসঙ্গ উঠে আসেনি।
২০১৫ সালের চুক্তি থেকে ট্রাম্পের সরে যাওয়া
২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নেন এবং তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। এরপর ইরান ধীরে ধীরে চুক্তির শর্তগুলো লঙ্ঘন করতে শুরু করে, যদিও তারা দাবি করে যে অন্যান্য স্বাক্ষরকারী দেশগুলো (চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি) ইরানের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
কী হতে পারে সামনের পদক্ষেপ?
এই আলোচনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংলাপ শুরু হওয়াকে অনেকেই আশাবাদী হিসেবে দেখছেন। আগামী শনিবারের বৈঠকে আরও স্পষ্ট কিছু ফলাফল আসতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
#ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #পারমাণবিক_আলোচনা #ট্রাম্প #ওমান #খবর৫২
