দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ—ঢাকা–দিল্লি ও পশ্চিমা কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত নেই

মওদুদ আহমেদ, যুক্তরাজ্য, খবর৫২ঃ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা নিয়ে দেশি–বিদেশি মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে চলমান আনুষ্ঠানিক–অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনায়ও উঠে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।
ঢাকার নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে—দলটির বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ দলীয় পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। চাইলে দলের কিছু ‘ক্লিন ইমেজের’ ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তবে যাদের বিরুদ্ধে মামলা, অভিযোগ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রয়েছে—তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।
গত ১২ মে এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের সবধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞাই এখন নির্বাচনে দলটির উপস্থিতির প্রধান বাধা।
পশ্চিমা দেশগুলোর অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশও আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেছে। সরকার তাদেরও একই ব্যাখ্যা দিয়েছে—নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় দলটি নির্বাচন করতে পারবে না; কেবল ব্যক্তিগতভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিছু মানুষ চাইলে অংশ নিতে পারেন।
অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ও শেখ হাসিনার অবস্থান
দলটির ভেতরে ক্লিন ইমেজের নেতাকর্মীদের নিয়ে নতুনভাবে সংগঠিত হওয়ার এক ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিছু নেতা মনে করতেন—আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকলেও একটি পৃথক পরিচয়ে সংগঠিত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া যেতে পারে। তবে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা তাতে সম্মতি দেননি।
দলীয় সূত্র বলছে, শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন যে সংগঠনের লড়াই নিজেরাই লড়তে হবে, বাইরে কোনো নতুন কাঠামো বা বিকল্প নামে দল দাঁড় করানো ঠিক হবে না। তিনি মনে করেন, পরিস্থিতি বদলালে দল আবার সংগঠিত হয়ে দাঁড়াতে পারবে।
সামনে কী থাকতে পারে
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না হলে আওয়ামী লীগের দলীয় ব্যানারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থিতা একটি বিকল্প হিসেবে দাঁড়ালেও তা দলটির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক শক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের বাইরে থাকলে নির্বাচনী পরিবেশ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটার আচরণে বড় প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই প্রশ্নটি গভীর আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠছে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈরির প্রচেষ্টা এবং দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনার অগ্রগতি—সবকিছু মিলিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, সেটাই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের প্রধান নজরকাড়া বিষয়।
