আশুলিয়ায় স্বর্ণের দোকানীকে কুপিয়ে হত্যা করে স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় মালামালসহ আটক ৬

বাংলাদেশ

সাভারের আশুলিয়ায় স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ডাকাতি কালীন সময়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দীলিপ কুমার দাস (৪৭) নামে এক স্বর্ণের দোকানদার নিহত হয়েছে। ওই সময় ডাকাত দল অন্তত ২০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেন। রোববার (৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের নয়ারহাট বাজারের স্বর্ণপট্টিতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দীলিপ কুমার দাস পাথালিয়া ইউনিয়নের গোপিনাথপুর দাসপাড়া মহল্লার দুলাল দাসের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,রাত সাড়ে আটটার দিকে দীলিপ তার স্বর্ণের দোকান বন্ধ করছিল। এ সময় তার দোকানের এক সাঁটারে তালাবদ্ধ করে এবং অন্য সাঁটারে তালা লাগাতে যায়। এসময় একটি প্রাইভেটকারে চারজন ডাকাত এসে দীলিপকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। সে সময় দীলিপের হাতে থাকা স্বর্ণের ব্যাগ লুটে নেন এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ করেন ।


পরে ডাকাত দল স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়। নিহতের স্ত্রী সরস্বতী জানান, ‘আশুলিয়ার নয়ার হাটবাজারের স্বর্ণপট্টীতে আমার স্বামীর দিলীপ জুয়েলার্স নামে একটি স্বর্ণের দোকান রয়েছে। সেখান রাত সাড়ে ৮ টার দিকে আমার স্বামী দোকান বন্ধ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন ডাকাত স্বর্ণের ব্যাগে থাকা ২০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেন। সে সময় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা । পরে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয়।

এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেরাজুল রায়হান পাভেল জানাই ,দীলিপ কুমার দাসের বুকের ডান পাশে ও মুখে বড় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। সে হাসপাতালে আসলে আমরা চিকিৎসা শুরু করি। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার মৃত্যু হয়েছেন বলে জানান তিনি।
সেখানে সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায় দীলিপ দোকান বন্ধ করার সময় সাদা প্রাইভেট কারে আসা চারজন দীলিপকে এলোপাতাড়ি কোপায় এবং তার স্বর্ণের ব্যাগ লুট করে নেন।

ঘটনাটি জানার সাথে সাথে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আশুলিয়া থানার একটা চৌকশ টিম আমার (ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার) সার্বিক দিক নির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় খুনসহ ডাকাতির ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য সাভার, আশুলিয়া, রাজশাহী ও রাজবাড়ী জেলায় অভিযান পরিচালনা করে মোট ০৬ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা করেন । যাদের মধ্যে ০৫ জন ডাকাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যা ও স্বর্ণ ডাকাতি সংঘটন করে এবং একজন ডাকাতি মালামাল তার জিম্মায় রাখে। ডাকাত রিপন (৪০) কে সাভারের যাদুরচর এলাকা থেকে, মাসুদ রানা ওরফে কালা মাসুদ (৪৫), শাহ আলম (৪৫) এবং আরমান (৩৭) কে আশুলিয়া বারইপাড়া এলাকা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হলে জানা যায় যে, তারা চারজনসহ আরও ৮/৯ জন দীর্ঘ ৮/১০ বছর ধরে ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় তারা ডাকাতি করে আসছেন । তাদের দেয়া তথ্য মতে আশুলিয়া থানা পুলিশের তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আলোচিত এবং চাঞ্চল্যকর দিলীপ হত্যা ও স্বর্ণ ডাকাতির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে উক্ত ঘটনার দিনে রাত অভিযান পরিচালনা করেন ।

ডাকাত ইমরান, তার দুই ভাই শাহ আলম ও আরমান এছাড়া রিপন, আরিফ, আকাশ, তালিম ও মাসুদ রানা ওরফে কালা মাসুদ একটা ভাড়া গাড়িতে করে নয়ারহাট এলাকায় স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি করার জন্য টার্গেট করে যায়। ইমরান ও আকাশ উক্ত ভাড়াটে গাড়ির ভিতরে অবস্থান করে এবং আরমান ও শাহ আলম ঘটনাস্থলের পাশে পাহারা দেয় এবং তালিম ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতংক তৈরী করে। রিপন ও আরিফ দুটো চাপাতি দিয়ে দিলীপকে কোপ দেয় এবং মাসুদ রানা কালা মাসুদ (৪৫) স্বর্ণের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে উক্ত ভাড়াটে গাড়িতে ওঠে এবং ৮ জন মিলে গাড়িটা নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রিপন, শাহ আলম, আরমান ও মাসুদ রানা ওরফ কালা মাসুদের দেওয়া তথ্য মতে আরিফকে গতকাল রাজবাড়ির গোয়ালন্দ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ৮ ভরি স্বর্ণ এবং স্বর্ণ বিক্রয়ের ৭৬,০০/- টাকা উদ্ধার করা হয় এবং তাদের দেওয়া তথ্য মতে দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতির স্বর্ণ ক্রয়ের সাথে জড়িত ইব্রাহিমকে রাজশাহীর কর্ণহাট এলাকা থেকে লুণ্ঠিত ৫ ভরি স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আরিফের দেখানো জায়গা অর্থ্যাৎ আরমানের ফলের দোকান থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দুটি চাপাতি ও বেশকিছু স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে সোমবার (১৮ই মার্চ) আশুলিয়া থানায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার

উল্লেখ্য যে, গত সোমবার (১০ই মার্চ) দিলীপের স্ত্রী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *