
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আগামী মাসে চিলি ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের প্রাথমিক দল দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। দুই ম্যাচ পর আর্জেন্টিনা দলে ফিরেছেন লিওনেল মেসি।
চোটের কারণে গত মার্চের উইন্ডোতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে পারেননি মেসি। ওই দুটি ম্যাচ জয়ের পথে ২০২৬ বিশ্বকাপের মূলপর্বের টিকেট নিশ্চিত করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
রেকর্ড আটবারের ব্যালন দ’র জয়ীর সঙ্গে এবার দলে আরও ফিরেছেন ফরোয়ার্ড আলেহান্দ্রো গার্নাচো ও মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসো।
ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সময় চোট পেয়েছিলেন মেসি। যে কারণে অধিনায়ককে ছাড়াই মূল দল দিয়েছিলেন স্কালোনি।
তবে এবারও ২৮ সদস্যের দলে জায়গা হয়নি পাওলো দিবালার। চোটের কারণে মার্চের দলেও ছিলেন না ৩১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
লম্বা সময় পর দলে ফিরেছেন নিকোলাস দমিনগেস। নটিংহ্যাম ফরেস্টের এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার জাতীয় দলের হয়ে ১১ ম্যাচের সবশেষটি খেলেছেন ২০২১ সালে। লেফট-ব্যাক ভালেন্তিন বার্কোও ফিরেছেন। ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলার আর্জেন্টিনার জার্সিতে একমাত্র ম্যাচটি খেলেছেন ২০২৪ সালের মার্চে।
স্কোয়াডে ফিরেছেন ২০ বছর বয়সী দুই তরুণ আলেহান্দ্রো গারনাচো এবং ভ্যালেন্টিন ভারকোও। গারনাচো ও ভারকো দুজনই নিজ নিজ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং রেসিং স্ট্রাসবুর্গের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। এই পারফরম্যান্সই মূলত তাঁদের স্কালোনির স্কোয়াডে জায়গা ফিরিয়ে দিয়েছে।
গত মার্চে উরুগুয়ের মাঠে ১-০ গোলে জয়ের পর ঘরের মাঠে ব্রাজিলকে ৪-১ ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ওই ম্যাচে মাঠে নামার আগেই তাদের বিশ্বকাপের টিকেট নিশ্চিত হয়ে যায় উরুগুয়ের বিপক্ষে বলিভিয়া পয়েন্ট হারানোর ফলে।
আগামী ৫ জুন চিলির মাঠে খেলার পর ১০ জুন নিজেদের মাঠে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে তিনবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা।
লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাই থেকে শীর্ষ ছয় দল সরাসরি বিশ্বকাপের টিকেট পাবে। ১৪ ম্যাচে ১০ জয় ও এক ড্রয়ে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্জেন্টিনা। ২০ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে কলম্বিয়া। ১০ পয়েন্ট নিয়ে ১০ দলের তলানীতে চিলি। ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আছে ৪ নম্বরে। ১৪ ম্যাচে ব্রাজিলের পয়েন্ট ২১।
আর্জেন্টিনা দলের ম্যাচ খেলেই ইন্টার মায়ামিতে ফিরবেন মেসি। ১৫ জুন দলটি ক্লাব বিশ্বকাপে আল আহলির বিপক্ষে মাঠে নামবে।
আর্জেন্টিনার প্রাথমিক দল:
গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেস (অ্যাস্টন ভিলা), জেরোনিমো রুলি (অলিম্পিক মার্সেই), ওয়াল্তার বেনিতেস (পিএসভি আইন্দহোভেন)।
ডিফেন্ডার: নাহুয়েল মোলিনা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), হুয়ান ফইথ (ভিয়ারেয়াল), ক্রিস্তিয়ান রোমেরো (টটেনহ্যাম হটস্পার), লিওনার্দো বেলার্দি (অলিম্পিক মার্সেই), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), ফাকুন্দো মেদিনা (লঁস), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (লিঁও), ভালেন্তিন বার্কো (স্ত্রাসবুর)।
মিডফিল্ডার: আলেক্সিস মাক আলিস্তের (লিভারপুল), লেয়ান্দ্রো পারেদেস (রোমা), নিকোলাস দমিনগেস (নটিংহ্যাম ফরেস্ট), এসেকিয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুজেন), রদ্রিগো দে পল (আতলেতিকো মাদ্রিদ), তিয়াগো আলমাদা (লিঁও), জিওভানি লো সেলসো (রেয়াল বেতিস), এন্সো ফের্নান্দেস (চেলসি), নিকোলাস পাস (কোমো)।
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), হুলিয়ান আলভারেস (আতলেতিকো মাদ্রিদ), লাউতারো মার্তিনেস (ইন্টার মিলান), ভালেন্তিন কাস্তেয়ানোস (লাৎসিও), আলেহান্দ্রো গার্নাচো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নিকোলাস গনসালেস (ইউভেন্তুস), জুলিয়ানো সিমেওনে (আতলেতিকো মাদ্রিদ), আনহেল কোররেয়া (আতলেতিকো মাদ্রিদ)।
