আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান: গাজায় ত্রাণবাহী জাহাজ আটক, ৪৪৩ স্বেচ্ছাসেবী আটক

প্রচ্ছদ শিরোনাম


বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে রওনা হওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ৪৪৩ জন স্বেচ্ছাসেবীকে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে বেআইনিভাবে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইসরায়েলি নৌবাহিনী জোরপূর্বক তাদের জাহাজগুলো দখল করে স্বেচ্ছাসেবীদের গ্রেপ্তার করেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিশ্বের ৪৭টি দেশের নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে আছেন চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরাও।

ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা:
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসরায়েলি নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঢুকে জলকামান ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি ছিটিয়ে জাহাজগুলোতে হামলা চালায়। পরে জোরপূর্বক স্বেচ্ছাসেবীদের তুলে নিয়ে একটি সামরিক জাহাজে করে অজ্ঞাত একটি বন্দরে স্থানান্তর করা হয়। ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও জাহাজের তালিকা:
ফ্লোটিলা সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েলি বাহিনী জাহাজগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিয়েছে, যার ফলে বেশিরভাগ জাহাজের সঙ্গেই এখন কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফ্লোটিলার দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলের হাতে আটক হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফ্রি উইলি (পোল্যান্ড), ক্যাপ্টেন নিকোস (পোল্যান্ড), ফ্লোরিডা (পোল্যান্ড), অল ইন (ফ্রান্স), কারমা, অক্সিগোনো (পোল্যান্ড), মোহাম্মদ ভাহর (নেদারল্যান্ডস), জেনো (স্পেন), সিউল (পোল্যান্ড), হিও (পোল্যান্ড), মর্গানা (ইতালি), ওটারিয়া (ইতালি), গ্র্যান্ডে ব্লু (পোল্যান্ড), দেইর ইয়াসিন (আলজেরিয়া), হুগা (পোল্যান্ড), অরোরা (ইতালি), ইউলার (স্পেন), স্পেকট্রে (স্পেন), আদারা (স্পেন), আলমা (যুক্তরাজ্য) ও সিরিয়াস (যুক্তরাজ্য)।

এছাড়াও বেশ কয়েকটি জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—মিয়ামিয়া, ভ্যাংলেইস, পাভলস, ওয়াহু, ইনানা, মারিয়া, আলাকাতালা, মেটেক, মাংগো, আদাজিও, আহেদ তামিমি, অস্ট্রাল, আমস্টারডাম, ওহওয়াইলা, সেলভাগিয়া, কাতালিনা, এসত্রেলা ও ফেয়ার লেডি। ফরাসি পতাকাবাহী মিকেনো জাহাজটি ফিলিস্তিনি জলসীমায় প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হলেও তার সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি।

আইনি পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
ফ্লোটিলার পক্ষে আইনি সহায়তা দিচ্ছে ইসরায়েলভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আদালাহ। সংস্থাটি জানিয়েছে, আটকদের বিষয়ে খুবই সীমিত তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফ্লোটিলা বিশ্বের সকল দেশ, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে এই ‘অপহরণ’ বন্ধ এবং আটক মানবিক সহায়তাকারীদের অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা:
উল্লেখ্য, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে গাজায় সরাসরি সমুদ্রপথে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো। গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েলের দমননীতি তাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না এবং গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *